বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪৭ হাজার ২০৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের দিন ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১০ হাজার ২৯৯ জন। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সব মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ১৫৮। মোট মৃত্যু হয়েছে ২২ হাজার ৮৯৭ জনের। আর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১২ লাখ ১৯ হাজার ৮৫৯ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৪ হাজার ৪১২ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন ৭১ জন, খুলনা বিভাগে ২৫ জন, রংপুরে ১৯ জন এবং সিলেটে ১৮ জন। বাকিরা অন্যান্য বিভাগের।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়। কয়েক মাসের মধ্যে এই ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ।

এরপর বিভিন্ন সময়ে সংক্রমণ কমবেশি হলেও দুই মাসের বেশি সময় ধরে দেশে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যু কয়েক গুণ বেড়েছে। গত জুলাই মাসে দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ১৮২ জনের। প্রায় দেড় বছর ধরে চলা এই মহামারিতে এর আগে কোনো মাসে এত মৃত্যু দেখেনি বাংলাদেশ। এর আগে বেশি মৃত্যু হয়েছিল গত এপ্রিলে ২ হাজার ৪০৪ জনের।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে গত মাসের প্রথম দুই সপ্তাহ দেশে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ পালন করা হয়। এ সময় সব ধরনের অফিসের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু ২১ জুলাই ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই বিধিনিষেধ আট দিনের জন্য শিথিল করা হয়। ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে আবার সর্বাত্মক বিধিনিষেধ চলছে, যা শেষ হচ্ছে আগামীকাল। এরপর আবার অফিস, ব্যাংক, রেস্তোরাঁ, দোকানপাট ও গণপরিবহনসহ প্রায় সব কিছু খুলে দেওয়া হচ্ছে।

মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এতদিন বাস–ট্রেন–লঞ্চে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহন করতে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার আর সেই বিধিনিষেধ থাকছে না। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে, সড়ক, রেল ও নৌপথে আসনসংখ্যার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন বা যানবাহন চলাচল করতে পারবে। তবে সড়ক পথে গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন নিজ নিজ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা সংস্থা, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিদিন মোট পরিবহনসংখ্যার অর্ধেক চালু করতে পারবে।

বর্তমানে সারা বিশ্বেই করোনার ডেলটা ধরনের দাপট চলছে। এরইমধ্যে বিশ্বের অন্তত ১৩৫টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার অতিসংক্রামক এই ধরন ছড়িয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়েই করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ কোটি ২২ লাখ ৯৬ হাজার ২১৬ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৪২ লাখ ৮৮ হাজার ১৩৪ জনের। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। মৃত্যুর তালিকায় ব্রাজিল দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও রোগী শনাক্তের দিক দিয়ে দেশটির অবস্থান তৃতীয়। আর রোগী শনাক্তের দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং মৃত্যুর দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ব্রাজিলে ৯৯০ জনের। তারপরে মৃত্যু হয়েছে রাশিয়ায় ৭৮৭ জনের। তৃতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে মেক্সিকোতে ৫১৫ জনের। চতুর্থ সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ভারতে ৪৪৭ জনের।

এ সময় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ব্রাজিলে ৪৩ হাজার ৩৩ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে ভারতে ৩৫ হাজার ৪৯৯ জন। রোগী শনাক্তের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য ২৮ হাজার ২২৯ জন।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন