বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড মহামারিতে দেশব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালে অনেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিরাপদ পানি, যথাযথ স্যানিটেশন এবং উন্নত স্বাস্থ্যসুবিধা ছাড়াই হাসপাতাল, কোয়ারেন্টিন সেন্টার এবং সামাজিক পর্যায়ে সম্মুখসারিতে কাজ করে গেছেন। ভাইরাসের হুমকি ছাড়াও পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রমে অনেক রকম বিপদ রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যবিষয়ক সমস্যা ও রোগের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি থাকে এবং তাঁদের প্রায়ই মনুষ্যবর্জ্যের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শে আসতে হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্বল অবকাঠামোর ফলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারেন। এর থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের ফলে তাঁরা জ্ঞান হারাতে পারেন, এমনকি এতে মৃত্যুঝুঁকিও রয়েছে।

৩৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারী কনা নাগমনি। তিনি পেশায় রাস্তার ঝাড়ুদার। নাগমনি বলেন , ‘ঝাড়ু দেওয়ার সময় কখনো কখনো আমাকে মানুষের মলও পরিষ্কার করতে হয়। কিন্তু এ সময় মোছার জন্য একটা কাপড় ছাড়া আর কিছু থাকে না। আমি যেখানে কাজ করি, সেখানে আশপাশে হাত ধোয়ার মতো কোনো জায়গা নেই, তাই হাত ধোয়ার জন্য আমাকে অফিসে ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।’

এ বিষয়ে ওয়াটারএইডের প্রধান নির্বাহী টিম ওয়েনরাইট বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ওয়াশ পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চলমান ও ভবিষ্যৎ মহামারি থেকে সুরক্ষিত থাকতেও এটি অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ছাড়া এটি চলমান থাকা সম্ভব নয়। সবার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিকও বিবেচনায় রেখে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিনিয়োগ করা ও তাঁদের সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, সমাজে স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মীদের পেশার কোনো স্বীকৃতি নেই। তাঁরা সামাজিক অবজ্ঞা ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার সম্মুখীন হন, সেই সঙ্গে তাঁরা স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হন, যদিও তাঁরাই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় কাজ করার কারণে সবচেয়ে বেশি অসুস্থতার ঝুঁকিতে থাকেন। তাঁদের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা এবং নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার সময় এসেছে।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন