প্রতিদিনই বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। তাই করোনার টিকা নিতে আগ্রহ বেড়েছে মানুষের। আজ সোমবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে টিকা নিতে আসা নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। কুমিল্লা সদর, ১৭ জানুয়ারি
ছবি: এম সাদেক

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় দেশে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা সাড়ে ছয় হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শনাক্তের হারও উঠে গেছে ২০ শতাংশের ওপরে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে করোনা সংক্রমিত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৬৭৬ জন। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ২২২। এক দিনের ব্যবধানে নতুন রোগী বেড়েছে ১ হাজার ৪৫৪ জন।

আজ বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে করোনা সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মোট ৩১ হাজার ৯৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ১৭ দশমিক ৮২ শতাংশ।

কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার বাড়ছে। করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে গত বছরের মাঝামাঝি দেশে করোনায় মৃত্যু, রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার বেড়েছিল। তবে আগস্টে দেশব্যাপী করোনার গণটিকা দেওয়ার পর সংক্রমণ কমতে থাকে।

গত মাসের প্রথম দিকেও দেশে করোনা শনাক্তের হার ১ শতাংশের ঘরেই ছিল। তবে ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। গত মাসের শেষ দিকে যেখানে দৈনিক রোগী শনাক্ত ৫০০–এর ঘরে ছিল, সেখানে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে এই সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে যায় ১০ জানুয়ারি। তার চার দিনের মাথায় গত শুক্রবার দৈনিক রোগী শনাক্ত ৪ হাজার ছাড়ানোর তথ্য আসে।

করোনার নতুন ধরন অমিক্রন দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। করোনার এই ধরন অতিসংক্রামক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম আজ জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকায় অমিক্রনের সংক্রমণ বেশি ঘটেছে। তবে ঢাকার বাইরে এখনো করোনার ডেলটা ধরনের সংক্রমণ ঘটছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এরই মধ্যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান–সমাবেশ বন্ধসহ ১১ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা না মানলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে ৬ জন নারী, পুরুষ ৪ জন। তাঁদের মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। চট্টগ্রামে দুইজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সাতজনের মৃত্যু হয়েছে সরকারি হাসপাতালে, তিনজনের বেসরকারি হাসপাতালে।
সম্প্রতি করোনায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের ৮০ শতাংশের টিকা নেওয়া ছিল না বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন।

২০২০ সালের মার্চে বাংলাদেশে প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৭ জন। সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১৫৪ জনের। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৩ হাজার ৩২০ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪২৭ জন সুস্থ হয়েছেন।