default-image

গণপরিবহন, উপাসনালয়, গণজমায়েত ও পর্যটনকেন্দ্রগুলো থেকে করোনাভাইরাস বেশি ছড়াচ্ছে। সংক্রমণপ্রবণতা বিবেচনা করা হলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশ করোনা পরিস্থিতির একটি সংকটময় অবস্থায় পড়বে। এ অবস্থায় কোভিড মোকাবিলায় যে ভুলগুলো হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এমন তথ্য উঠে এসেছে করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সক্ষমতা পর্যালোচনার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক সভার কার্যপত্র থেকে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে গত ২৫ মার্চ ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্ট কিছু সূত্রের ভাষ্য, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সচেতনতা বাড়ানো ও নন–কোভিড হাসপাতালের বিছানাকে করোনা রোগীর বিছানা হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া আক্ষরিক অর্থে তেমন পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না। কিন্তু করোনার টিকা দেওয়ার পর কিছু
লোক অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়ে। সমুদ্রসৈকতে ভিড় বাড়ে। প্রচুর বিয়ের অনুষ্ঠান হয়, তাতে প্রচুর লোকের সমাগম হয়। এসব অনুষ্ঠানে অনেকেই মাস্ক পরেননি, মানা হয়নি সামাজিক দূরত্ব। পাশাপাশি ওয়াজ মাহফিল ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান থেকেও সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমাদের ১৮ দফা মেনে চলতে হবে। লকডাউন দেওয়া হয়েছে, তা মানতে হবে। ইচ্ছে করলেই হাসপাতালের শয্যা বাড়ানো যাবে না।’

টিকার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখনো আমাদের নিজেদের কেনা টিকা পাইনি। এপ্রিল মাস চলে এসেছে। এটা একটু চিন্তার বিষয়।’

বিজ্ঞাপন

করোনা মোকাবিলায় প্রস্তাব

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত এক বছরে তেমন কোনো উদ্যোগ না নিতে পারলেও এখন ১ হাজার ৫০০ শয্যার মহাখালীর ঢাকা উত্তর সিটির আইসোলেশন সেন্টারকে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের আওতায় আনা, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০০ শয্যার কোভিড ডেডিকেটেড চিকিৎসা কার্যক্রম গ্রহণ করার চিন্তা করছে।

মার্চ মাস পর্যন্ত সরকারের প্রতিবেদন বলছে, সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি ৯৭টি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে ১০ হাজার ৫০০টি জেনারেল শয্যা, ৫৪৯টি আইসিইউ শয্যা চালু আছে। সব জেলা, উপজেলা পর্যায়ে কমপক্ষে পাঁচটি শয্যা কোভিড রোগীদের জন্য প্রস্তুত রাখা আছে। সারা দেশে কোভিডসংশ্লিষ্ট অক্সিজেন সিলিন্ডার ১৩ হাজার ৪১৫টি, হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা ৯৫৫টি, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ৭৯৯টি এবং ৫৭৩টি ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

করোনার শুরু থেকেই দেখা গেছে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে তেমন সমন্বয় নেই। ওই বৈঠকে সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত গঠিত সব ধরনের কমিটিকে সক্রিয় করে জবাবদিহির আওতায় আনা, কোভিড চিকিৎসাসেবা কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাঁদের সুরক্ষাসেবাসহ সব সুবিধা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া কোভিড সংক্রমণ শনাক্তকরণ পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিতে জোর দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আমরা এখনো আমাদের নিজেদের কেনা টিকা পাইনি। এপ্রিল মাস চলে এসেছে। এটা একটু চিন্তার বিষয়।
জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী

টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা

সরকার এ পর্যন্ত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে ৭০ লাখ এবং উপহার হিসেবে আরও ৩২ লাখ—মোট ১ কোটি ২ লাখ টিকা পেয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, টিকার সংকট সামনে তৈরি হবে। যতক্ষণ আছে দেওয়া যাবে। সরকার রাশিয়া ও চীন থেকে টিকা আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক জবাব পাওয়া যায়নি।

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. ইহতেশামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেটা ভালো দিক, সেটা হচ্ছে হাসপাতালের প্রস্তুতি আগের চেয়ে ভালো। আইসিইউ শয্যা, অক্সিজেন ব্যবস্থা গত বছরের চেয়ে অনেক ভালো। আমাদের পরীক্ষার সুযোগ বেড়েছে। চিকিৎসকদের ভীতি অনেক কমেছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের কোনো সিদ্ধান্তে কঠোর হতে পারেনি। সমন্বয়হীনতা প্রকট ছিল।’

বিজ্ঞাপন
করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন