বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ভারতের ১৭ শতাংশ মানুষ দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন। পাকিস্তানে এই হার ১৩ শতাংশ। ভুটান ও মালদ্বীপের দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন যথাক্রমে ৬৭ ও ৬২ শতাংশ মানুষ। শ্রীলঙ্কায় এই হার ৫৩ শতাংশ।

বাংলাদেশের অবস্থান শুধু প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের চেয়ে কিছুটা ভালো। দেশটিতে দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন ৭ শতাংশ মানুষ। আরেক প্রতিবেশী নেপালে জনসংখ্যার ২১ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া শেষ।

সরকার গত মাসে বলেছিল, ডিসেম্বরের মধ্যে ১০ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর—এই তিন মাসে আট কোটির বেশি মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত দেশে পূর্ণ দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন ১ কোটি ৭০ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪৩ জন। আর প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৫ জনকে।

টিকা পরিস্থিতি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত ২৬ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, দেশে টিকা এসেছে সাড়ে পাঁচ কোটির মতো। এরপর গতকাল কোভ্যাক্সের মাধ্যমে জার্মানি থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৭ লাখ ৯০ হাজার টিকা এসেছে।

এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত টিকা এসেছে প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডোজ। সরবরাহ ও টিকাদানের হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানুষকে দেওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে ৫০ লাখের মতো টিকা মজুত আছে। দিনে ১০ লাখ করে দিলে এই টিকা এক সপ্তাহে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। অন্যদিকে এই অল্প মজুত দিয়ে সম্প্রসারিত কর্মসূচি চালানোও সম্ভব নয়। যদিও সরকার বলছে, খুব শিগগির দেশে আরও টিকা এসে পৌঁছাবে।

সামর্থ্য আছে

দেশে এখন দিনে যে পরিমাণ টিকা দেওয়া হয়, সামর্থ্য তার চেয়ে বেশি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে ৮০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল। ওই দিন মোট ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯২ জন টিকা পেয়েছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই দিন ঝড়-বৃষ্টির কারণে ৬টি জেলায় টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে পরের দিন তা সম্পন্ন করা হয়। ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দুই দিনে ৮০ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়। এর আগে গত ৭ আগস্ট এক দিনে প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ টিকা ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যসচিব এবং মাতৃ, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, মানুষ টিকা নিতে চায়। অন্যদিকে এক দিনে বেশিসংখ্যক মানুষকে যে টিকা দেওয়া সম্ভব, ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মজুত না বাড়ালে দ্রুত বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশ কেনা ও প্রতিশ্রুতি মিলিয়ে ২৫ কোটির বেশি টিকার ব্যবস্থা করে ফেলেছে। এখন দরকার টিকা দ্রুত এনে তা দেওয়া। কোভ্যাক্সের মাধ্যমে টিকা কবে আসবে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বক্তব্য তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই কোভ্যাক্সের আওতায় দেশের ২০ শতাংশ মানুষের জন্য টিকা আসার পর খুব অল্প সময়েই ৪০ শতাংশের জন্য টিকা আসবে। পাশাপাশি অন্যান্য মাধ্যম থেকেও টিকা কেনার কাজটি চলবে।

সার্বিক বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সুফল পেতে হলে অল্প সময়ে বেশি মানুষকে পূর্ণ দুই ডোজ টিকার আওতায় আনতে হবে। কিন্তু দেশে টিকাদানের গতি মন্থর। গতি বাড়াতে হলে টিকার আমদানি বাড়াতে হবে।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন