বিজ্ঞাপন

টিকার মজুত কমে আসায় গত ২৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় প্রথম ডোজের টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই সময় পর্যন্ত জেলায় প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ৪৯ হাজার ১১৩ জন । আর গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৭২৮ জন দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন। এরপরই টিকার মজুত শেষ হয়ে যায়। সেই হিসাবে ১২ হাজার ৩৮৫ জন দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

আজ সকাল ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ে আধুনিক সদর হাসপাতালের করোনা টিকাদান বুথে গিয়ে দেখা যায়, ফটকে বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে । তাতে লেখা আছে, ‘কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম আপাতত সাময়িকভাবে বন্ধ থাকিবে। ধন্যবাদান্তে সিভিল সার্জন, ঠাকুরগাঁও।’ টিকা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই। দ্বিতীয় ডোজ টিকা পাবেন কি না, এ নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।

নারগুন গ্রামের রহমত আলী (৫৪) বলেন, ‘গতকাল মোবাইলে টিকা নেওয়ার তারিখ জানিয়ে মেসেজ দিল। সেই বার্তা পেয়ে আজ হাসপাতালে এসে দেখি টিকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কবে টিকা পাব, তাও কেউ খুলে বলছেন না।’

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, গবেষণার জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ৩৫০ জনের রক্ত নিয়েছে। তাঁদের জন্য টিকার ৩৫টি ভায়াল (শিশি) রাখা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে দুই বছর পর্যন্ত রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হবে।

সিভিল সার্জন মাহফুজার রহমান সরকার বলেন, জেলায় ৮ হাজার ৭৫০ ভায়াল করোনা টিকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল। গতকাল তা শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে আজ থেকে জেলায় করোনা টিকা দেওয়ার কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই আবার টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ১ হাজার ৬৫৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৭ শতাংশ। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৫৬০ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। আর করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন ৩৪ জন। সংক্রমিতের তুলনায় মৃত্যুর হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন