default-image

দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে শনাক্ত রোগীর অধিকাংশ ছিল ঢাকা মহানগরীতে। নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রমও ছিল রাজধানীকেন্দ্রিক। সংক্রমণের সপ্তম মাসে এসে দেখা যাচ্ছে, ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরে তুলনামূলক নমুনা পরীক্ষা কম হলেও শনাক্ত রোগী বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, নমুনা পরীক্ষায় ঢাকায় প্রতি ১১ জনে ১ জন এবং ঢাকার বাইরে প্রতি ৪ জনে ১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

একাধিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলছেন, সরকার জেলা পর্যায়ে পরীক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ঢাকার বাইরে পরীক্ষা বেশি হলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আরও বেশি হতো। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নমুনা সংগ্রহ সীমিত। এ কারণে নমুনা সংগ্রহকারীরা সন্দেহভাজন রোগীদের উপসর্গ নিশ্চিত হয়েই নমুনা নিচ্ছেন। অন্যদিকে ঢাকা মহানগরে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নমুনা পরীক্ষা করছে, উপসর্গ না থাকলেও অনেকে সেখানে পরীক্ষা করাতে পারছেন। ঢাকায় বিদেশগামী অনেক যাত্রীর পরীক্ষার তথ্যও যুক্ত করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রতি জেলায় করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ত। সব জায়গা থেকে সমানসংখ্যক নমুনা সংগ্রহ না করা হলে সংক্রমণের তথ্যেও ভুল থাকবে। প্রতিটি জেলায় দ্রুততম সময়ে করোনার পরীক্ষাকেন্দ্র চালু করা জরুরি। ঢাকার বাইরে নমুনা সংগ্রহের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ১১টি। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ পরীক্ষা হয়েছে ঢাকা মহানগরে। বাকি ৪০ শতাংশ পরীক্ষা হয়েছে ঢাকার বাইরে।

দেশে এখন ৯৪টি পরীক্ষাকেন্দ্রে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ৫৪টি আর ঢাকার বাইরে ৪০টি।

বিজ্ঞাপন

পরীক্ষাকেন্দ্র নেই এমন দুটি জেলার সিভিল সার্জন নাম না প্রকাশের শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের জেলায় পরীক্ষাকেন্দ্র চালু করতে বেশ কয়েকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। জেলায় পরীক্ষাকেন্দ্র না থাকায় নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং অন্য জেলায় তা পরিবহনে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। জেলায় পরীক্ষাকেন্দ্র না থাকায় জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট এমন উপসর্গ থাকলেই নমুনা নেওয়া হচ্ছে।

গতকাল পর্যন্ত দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৭০ জনের। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ওয়েবসাইটে শনাক্ত রোগীদের এলাকাভিত্তিক তথ্য দেওয়া হয়। গতকাল পর্যন্ত ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭২৩ জন রোগীর এলাকাভিত্তিক তথ্য নিশ্চিত করেছে আইইডিসিআর। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট শনাক্ত রোগীর ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ ঢাকার বাইরের। আর শনাক্ত রোগীর ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ ঢাকা মহানগরের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস) হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, যেসব জেলায় পরীক্ষাকেন্দ্র নেই সেখানকার সিভিল সার্জন কার্যালয় ও উপজেলা হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হচ্ছে। সুযোগ পাওয়ামাত্রই জেলায় পরীক্ষাকেন্দ্র চালু করা হচ্ছে। ঢাকার বাইরে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা বাড়াতে কাজ চলছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

শনাক্তের হার কমলেও মৃত্যু কমছে না

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের হার কমলেও মৃত্যু কমছে না। টানা ৯ দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো করোনায় মৃত্যু ৪০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার আগের দিনের চেয়েও কমেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৮৯২ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১২ দশমিক ১৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সপ্তাহওয়ারি হিসাবে টানা সাত সপ্তাহ সংক্রমণ শনাক্তের হার কমতির দিকে।

৮ মার্চ দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের তথ্য জানায় সরকার। শুরুর দিকে পরীক্ষার তুলনায় সংক্রমণ শনাক্তের হার কম ছিল। মে মাসের শেষ সপ্তাহে দৈনিক সংক্রমণ শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে চলে যায়। গত ২০ আগস্ট পর্যন্ত কয়েক দিন বাদে দৈনিক সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ২০-২৫ শতাংশ। গত ২১ আগস্ট থেকে দৈনিক করোনা রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের নিচে থাকছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মারা গেছেন ৪১ জন। সব মিলিয়ে করোনায় সংক্রমিত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৩৪ জন। কোনো দেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, তা বোঝার জন্য কিছু নির্দেশক নির্ধারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তার একটি হলো টানা তিন সপ্তাহ ধরে মৃত্যু কমতে থাকা। কিন্তু বাংলাদেশে টানা মৃত্যু কমতে দেখা যাচ্ছে না।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে প্রতি ১০ লাখে ১ হাজার ৯৫৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর বিপরীতে প্রতি ১০ লাখে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৩৭১ জন। আর প্রতি ১০ লাখ মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের।

মন্তব্য পড়ুন 0