default-image

রাজধানীর মেরাদিয়ার বাসিন্দা খুকু বেগমের পাঁচ দিন ধরে জ্বর। আছে গলাব্যথা। সঙ্গে খুশখুশ কাশি। প্রথমে ভেবেছিলেন, তাঁর সাধারণ জ্বর হয়েছে। এ জন্য জ্বর নিরাময়ের ওষুধ খাচ্ছিলেন। কিন্তু জ্বর সারেনি। খুশখুশে কাশিও কমেনি। এবার তাঁর সন্দেহ হয়। করোনা পরীক্ষা করাতে সকাল নয়টার আগেই চলে আসেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এসে দেখেন, করোনার নমুনা দেওয়ার জন্য টিকিট নিতে হচ্ছে। সেই টিকিট নিতে মানুষের দীর্ঘ লাইন। সেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লেন খুকু বেগম।

এক ঘণ্টা গেল, দুই ঘণ্টা গেল, তবু তিনি টিকিট হাতে পেলেন না। হাসপাতালের গেটে আসার প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর টিকিট দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খুকু বেগমকে জানিয়ে দিলেন, আজ তিনি করোনার নমুনা দেওয়ার টিকিট পাবেন না। কারণ টিকিট সব শেষ।

টিকিট পাবেন না, এমন খবর শুনে চরম ক্ষুব্ধ হন খুকু। হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, এত কষ্ট করে অসুস্থ শরীরে টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে থাকলেন। তবু টিকিট পেলেন না। আগেভাগে যদি জানতেন, আজ টিকিট পাবেন না। তাহলে অনেক আগেই বাসায় চলে যেতেন।

বিজ্ঞাপন

একা খুকু বেগম নন, তাঁর মতো আরও ৪০–৫০ জন মুগদা হাসপাতালে টানা তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও একটি টিকিট জোগাড় করতে পারেননি। অথচ তাঁরা সবাই ন্যূনতম শারীরিক দূরত্ব বজায় না রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

মুগদা হাসপাতালে করোনার নমুনা দেওয়ার জন্য ফটক থেকেই টিকিট নিতে হয়। যাঁরা টিকিট পান, তাঁরা হাসপাতালের নিচতলায় গিয়ে করোনার নমুনা দিয়ে আসেন। পরে মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হয়।
মুগদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, বর্তমানে প্রতিদিন ২৮২ জনের করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

default-image

মিজান তালুকদারের বয়স ৫৫ বছর। পেশায় গাড়িচালক। পরিবার নিয়ে থাকেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায়। তিন দিন ধরে গায়ে সামান্য জ্বর আছে। জ্বরের সাধারণ ওষুধপত্র খেয়েছেন, কিন্তু জ্বর কমেনি। তাই তিনি করোনা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। আজ সকাল নয়টায় অটোরিকশায় করে মুগদা হাসপাতালের ফটকে চলে আসেন। দাঁড়িয়ে যান টিকিট পাওয়ার লাইনে। কিন্তু দুপুর ১২টার পরও তিনি টিকিট হাতে পাননি। পরে জানতে পারেন, আজ আর টিকিট দেওয়া হবে না। এতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন মিজান তালুকদার।

তাঁর মতো আরও অনেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর চরম নাখোশ। তাঁদের একটাই কথা, লকডাউনে যেখানে গাড়ি পাওয়া দুষ্কর, সেখানে তাঁরা বেশি ভাড়া দিয়ে শুধু করোনার নমুনা দেওয়ার জন্য সকাল নয়টায় এসে হাজির হয়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন। এটা রীতিমতো হয়রানি।

করোনার নমুনা দেওয়ার টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ ৪০ থেকে ৫০ জনের অভিযোগের বিষয়টি জানানো হলে মুগদা হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা সত্যিই দুঃখজনক ঘটনা। করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় নমুনা দেওয়ার লোকের সংখ্যা অনেক গুণ বেড়ে গেছে। আমরা প্রতিদিন মাত্র ২৮২টি নমুনা সংগ্রহ করে থাকি। প্রতিদিনই কিছু লোক ফিরে যান। তবে পরের দিন তাঁদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নমুনা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। এই হয়রানি বন্ধের জন্য কাল থেকে নিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। যাঁরা নমুনা দেবেন, তাঁরা হাসপাতালের টেলিমেডিসিন সেবায় ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দেবেন। তাঁদের নামের তালিকা করা হবে। কখন, কবে নমুনা দেবেন, সেটা মুঠোফোনে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন
করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন