প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পরই তাঁর সরকার সংক্রমণ প্রতিরোধে বিনা মূল্যে টিকা প্রদানকে অগ্রাধিকার দেয় সরকার। টিকা আবিষ্কার ও ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের আগেই টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮ কোটি ৯১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৮ জনকে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৫ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার ৮৩৪ জন। মোট ১৪ কোটি ৬১ লাখ ৮৪ হাজার ৮১২ জন টিকা পেয়েছেন।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদের ১৬তম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন তিনি।
সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ লক্ষ্যে করোনা টিকা আবিষ্কার ও ব্যবহারের অনুমতি প্রাপ্তির পূর্ব হতেই আমরা টিকা সংগ্রহ ও টিকা প্রদানের বিষয়ে সব উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। তারই ফলস্বরূপ গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী বিনা মূল্যে কোভিড টিকাদানের কার্যক্রম শুরু হয় এবং অদ্যাবধি তা অব্যাহত রয়েছে।’
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। তিনি বলেন, দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮ কোটি ৯১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৮ জনকে প্রথম ডোজ এবং ৫ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার ৮৩৪ জনকে দ্বিতীয় ডোজসহ মোট ১৪ কোটি ৬১ লাখ ৮৪ হাজার ৮১২ জনকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বের মতো দেশের কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকারও চলমান কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় বুস্টার ডোজ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে ন্যাশনাল ইমুনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি গ্রুপ বাংলাদেশের সুপারিশ অনুযায়ী এবং করোনাভাইরাস টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির অনুমোদনক্রমে দেশব্যাপী গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে দেশে ষাটোর্ধ্ব জনগোষ্ঠী, সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মী ও বিদেশগামী কর্মীদের বুস্টার ডোজ দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের পর যাঁদের ৬ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে, তাঁদের বুস্টার ডোজ প্রদান করা হচ্ছে।
পর্যায়ক্রমে অন্যদের এ বুস্টার ডোজের আওতায় আনা হবে। ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ লাখ ৪১ হাজার ২৬৫ জনকে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।