উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, টিকার উদ্দেশ্য মানবদেহে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার এবং আক্রান্ত হলে রোগের তীব্রতার আশঙ্কা কমায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিবডির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমে যায়। বুস্টার ডোজের মাধ্যমে পুনরায় কোভিড প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

গবেষণায় দুই ডোজ টিকা নেওয়ার এক মাস পর, দুই ডোজ টিকা নেওয়ার ছয় মাস পর এবং বুস্টার ডোজ নেওয়ার এক মাস পর শরীরে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি অ্যান্টিবডির মাত্রা পরিমাপ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ২২৩ জন অংশগ্রহণকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে ২ ডোজ টিকা নেওয়ার এক মাস পর এবং তাঁদের মধ্যে ৩০ জনের ২ ডোজ টিকা নেওয়ার ৬ মাস পর ও বুস্টার ডোজ নেওয়ার এক মাস পর অ্যান্টিবডির মাত্রা পরিমাপ করা হয়।

টিকা গ্রহণের পর প্রথম ধাপে ২২৩ জনের মধ্যে ৯৮ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। যাঁরা আগেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাঁদের শরীরে তুলনামূলক বেশি অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়। টিকা নেওয়ার ছয় মাস পার হওয়ার পর দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবডির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন টিকাগ্রহীতার ক্ষেত্রে দেখা যায়, ৭৩ শতাংশের অ্যান্টিবডির মাত্রা কমেছে।

বুস্টার ডোজ নেওয়ার পর শতভাগ অংশগ্রহণকারী ব্যক্তির শরীরে অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়। প্রায় সবার ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবডির মাত্রা আবারও বেড়ে যায়। রক্তের মানদণ্ডে (হিমোগ্লোবিন, প্লাটিলেটসহ অন্যান্য) উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতার প্রমাণ গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে পাওয়া যায়।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের অধিকাংশই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। অর্ধেকের বেশি অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি আগে থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানিসহ অন্যান্য রোগে ভুগছিলেন। তবে এ ধরনের রোগের কারণে অ্যান্টিবডি তৈরিতে কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়নি। প্রায় সবার ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবডির মাত্রা একই রকম বৃদ্ধি পায়।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন