বিজ্ঞাপন

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের নিচতলার বহির্বিভাগে আটটি বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল সেখানে ৭৮০ জনকে টিকা দেওয়া হয়। এখানে বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টিকা কার্যক্রম চলে। এ কেন্দ্রে টিকাগ্রহীতাদের প্রত্যেককেই এসএমএস করে সময় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক বদরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার অভিজ্ঞতা থেকে তাঁরা বিকেলে টিকা দেওয়ার সময় বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার রোগী আসেন হাসপাতালে। একই সময়ে যদি আরও প্রায় হাজারখানেক মানুষ টিকা নিতে আসেন এবং তাঁদের সঙ্গে অন্তত আরও ৫০০ লোক থাকেন, তাহলে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সকালে যখন টিকা দেওয়া হতো, তখন ওপরে ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অনেক বয়স্ক মানুষ টিকা নিতে আসেন। লিফটে অন্য রোগীদের সঙ্গে টিকা নিতে যাওয়া, সেখানে গিয়ে টিকার পর বিশ্রাম নেওয়া—অনেকের জন্যই কষ্ট হয়ে যেত।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে বেলা দুইটার পর বহির্বিভাগ বন্ধ থাকে। এই সময়ে টিকা দেওয়া হলে ভিড় এড়ানো যায় বলে জানান বদরুল আলম। তিনি বলেন, ‘করোনার বর্তমান যে পরিস্থিতি, তাতে চাই না যে এত লোকের ভিড় হোক। এ ছাড়া বিকেলে দেওয়া হলে হাসপাতালের অন্য কার্যক্রমও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যায়। যে জনবল আছে, তাদেরও হিমশিম খেতে হয় না।’

বিকেলে টিকা দেওয়ায় টিকাগ্রহীতারাও তেমন অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেননি। মা হোসনে আরাকে টিকা দিতে বেলা দুইটা থেকে লাইনে আছেন মেসবাহ উদ্দিন। তিনি বলেন, দুপুরের পরে হওয়ায় তেমন সমস্যা নেই।

তবে রাশেদা আক্তার নামের এক গৃহিণী জানান, দুপুরে তিনি কোনো রকমে রান্না করে এসেছেন। খাওয়ার সময় পাননি, তাড়াহুড়া করে বের হয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, সকাল সকাল হলে টিকা দিয়ে অন্য কাজ সেরে নেওয়া যেত।

অন্য রোগীদের ভিড় না থাকায় সন্তুষ্ট প্রকাশ করছেন অনেকেই। মো. নিজামউদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এখন খুব বাজে সময় যাচ্ছে। প্রচুর মানুষ আক্রান্ত। এর মধ্যে টিকা নিতে এসে অন্য রোগীদের সংস্পর্শে আসা ঠিক হতো না। হাসপাতালের বিকেলে টিকা দেওয়ার সিস্টেমটা ভালো লাগছে।’

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন