গত বছরের জুন মাসে যেদিন দৈনিক শনাক্ত রোগী ৩ হাজার ছাড়ায়, এর ১২ দিন পর দৈনিক মৃত্যু ১০০ ছাড়িয়েছিল। আর শনাক্ত রোগী ১০ হাজার ছাড়ানোর পর দৈনিক মৃত্যু ২০০ ছাড়িয়েছিল। গত বছরের ২৭ জুন থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত টানা দুই মাস দৈনিক মৃত্যু ছিল শতাধিক। এর মধ্যে ৩০ দিন করোনায় দৈনিক দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মোট ৩৫ হাজার ৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৮ হাজার ৩৫৯ মানুষের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ নিয়ে গত দুই দিন দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা ১০ হাজারের নিচে এবং শনাক্তের হার ২৫ শতাংশের নিচে থাকল। এর আগে টানা ১২ দিন শনাক্তের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি ছিল।

দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ৬৩.৮৫% পুরুষ, নারী ৩৬.১৫%। করোনায় দেশে যত মানুষের মৃত্যু, তাঁদের মধ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সী ৫৫.৫০%।

দেশে করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি প্রায় সাড়ে তিন মাস নিয়ন্ত্রণে থাকার পর এ বছর জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে রোগী বাড়তে শুরু করে। ১৩ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্ত ৩ হাজার ছাড়ায়। এর এক সপ্তাহের মাথায় ২০ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তা ১০ হাজারের ওপরে ছিল। তবে দৈনিক মৃত্যু এখনো ৪০–এর নিচে আছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা এই মহামারিতে দেখা গেছে, নতুন রোগী বাড়তে থাকার তৃতীয় সপ্তাহ থেকে মৃত্যুও বাড়তে শুরু করে। সংক্রমণের এমন চিত্র বিশ্লেষণ করে দেশে দৈনিক মৃত্যু আগামী কিছুদিনের মধ্যে আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষেরই মৃত্যু হচ্ছে করোনায়। তবে বয়স্ক এবং হৃদ্‌রোগ, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের করোনায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৫২ শতাংশের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। সংক্রমণের শুরু থেকে করোনায় নারীর তুলনায় পুরুষ বেশি মারা যাচ্ছেন। গতকাল পর্যন্ত মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ ছিলেন পুরুষ আর নারী ৩৬ দশমিক ১৫ শতাংশ।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্তের ঘোষণা দেয় সরকার। এরপর প্রায় দুই বছর ধরে চলা এই মহামারিতে সংক্রমণচিত্রে কয়েক দফা ওঠানামা দেখা গেছে। এর মধ্যে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ আকার ধারণ করেছিল গত বছরের জুন-জুলাইয়ে। গত বছরের আগস্টে সংক্রমণ কমতে শুরু করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও চলে আসে। তবে বিদায়ী বছরের শেষ দিকে আবার সংক্রমণে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে।

সংক্রমণের শুরু থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট ১৮ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৯১ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ৫৬০ জনের। গতকাল পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় দেশে করোনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।