বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সকাল সাড়ে আটটায় মোহাম্মদপুরের চান মিয়া হাউজিং এলাকায় ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যালয়ে গিয়ে কয়েকজনকে ফিরে যেতে দেখা গেছে। এমন একজন মো. সুমন মিয়া। থাকেন মোহাম্মদপুরের লিমিটেড হাউজিং এলাকায়। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে তিনি গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘দুই মাস আগে টিকার জন্য নিবন্ধন করেছি। কিন্তু এখনো মেসেজ আসেনি। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে টিকা দেওয়া হবে—এ খবর জানতে পেরে অফিস থেকে দুপুর পর্যন্ত ছুটি নিয়েছিলাম। এসে জানলাম, আড়াইটার সময় টিকা দেবে। কিন্তু আমার ডিউটি আছে, যেতে হবে বেলা দুইটার মধ্যে।’

default-image

সেখানে গিয়ে পুলিশ সদস্যদেরও সকাল থেকে এসে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পুলিশ সদস্য মমতা খাতুন বলেন, ‘সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে যাত্রাবাড়ীর বাসা থেকে রওনা হয়েছি। ভাবছিলাম দুপুরের মধ্যেই টিকা দেওয়া শেষ করে বাসায় ফিরব। বাসায় ১০ মাসের মেয়েসন্তান আছে। এখন তো দুপুরের আগে শুরুই হচ্ছে না।’

ওই ওয়ার্ডের সচিব জয়ন্ত রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর বাসায় পৌঁছে জেনেছি যে সময় পরিবর্তন করে বেলা আড়াইটা করা হয়েছে। এলাকায় পরে মাইকিং হয়েছে কি না জানি না। আজ সকালে অফিসে এসে দেখি, ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো লোক অপেক্ষা করছেন। পরে তাঁদের ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি।’
ডিএনসিসির ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সূচনা কমিউনিটি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, টিকা নিতে আসা লোকজনকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। টিকা নিতে না পেরে এবং সময় পরিবর্তনের খবর শুনে টিকা নিতে আসা কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
এ কেন্দ্রে টিকা নিতে আসেন আবদুল মান্নান। তাঁর বাসা শেখেরটেক এলাকায়। তিনি আদালতে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘টিকা নেব বলে আজ দুপুর পর্যন্ত ছুটি নিয়েছি। এখন জানলাম, টিকা দেবে বেলা আড়াইটার পর থেকে।’

এই ওয়ার্ডের সচিব ইফতেয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল নয়টা থেকে টিকা দেওয়া হবে—এমন রেকর্ডিং করে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মাইকিং করতে লোক পাঠানো হয়। কিন্তু মাইকিং চলাকালেই নয়টার দিকে সময় পরিবর্তনের বিষয়টি জানতে পারি। পরে তখনই আবার রেকর্ডিং পরিবর্তন করে সাড়ে নয়টার দিকে আবার মাইকিং করা হয়। এর পরও ২৫ থেকে ৩০ জন লোক এসেছিলেন। তাঁদের বলে পাঠিয়ে দিয়েছি।’
বাইতুল আমান হাউজিংয়ের ১০ নম্বর সড়কে ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়েও গিয়ে দেখা যায় টিকা নিতে আসা লোকজন ফিরে যাচ্ছেন। টিকা কর্মসূচির জন্য প্রস্তুত করা প্যান্ডেল ফাঁকা।

এ কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কাউন্সিলরের ব্যক্তিগত সহকারী সেলিম আনোয়ার বলেন, ‘প্রস্তুতি ছিল সকাল থেকে টিকা দেওয়ার; কিন্তু আমরাই আজ সকালে কেন্দ্রে এসে সময় পরিবর্তনের কথা জেনেছি। যাঁরাই আসছেন, তাঁদের বেলা আড়াইটায় আসতে বলে দিচ্ছি।’

তবে ডিএনসিসির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নির্ধারিত টিকাদনকেন্দ্র সলিমুল্লাহ রোডের পানির ট্যাংকি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের টিকাদানকর্মীরা টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই কেন্দ্রে টিকা দেওয়ার দায়িত্বে আছে নারী মৈত্রী নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

নারী মৈত্রীর সুপারভাইজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘টিকা দেওয়ার সময় বেলা আড়াইটা থেকে। কিন্তু আমাদের কর্মীদের ডিউটিই বিকেল চারটা পর্যন্ত। দুপুরের পরে শুরু করলে শেষ হতে সন্ধ্যা-রাত হয়ে যাবে। তাই আমরা কিছুক্ষণের মধ্যে টিকা দেওয়া শুরু করব।’ পরে সকাল সোয়া ১০টার পর এ কেন্দ্রে টিকা দেওয়া শুরু হয়।

এর আগে এই কেন্দ্রে টিকা নিতে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন চাঁদ উদ্যানের বাসিন্দা রুমা আক্তার। কোলে চার বছরের ছেলেসন্তান নোমান। আরেক ছেলেকে স্কুলে দিয়ে এসেছেন। তবে ছেলের স্কুল সাড়ে ১০টায় ছুটি।

রুমা আক্তার বলেন, ‘ছেলের ছুটি হয়ে যাবে, অথচ টিকা দেওয়াই শুরু হয়নি। বাধ্য হয়ে একজন প্রতিবেশীকে ফোনে বলে দিয়েছি ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে তাঁর বাসায় রাখতে। জানি না কখন টিকা দিতে পারব।’

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন