default-image

প্রাচীন সভ্যতার দেশ গ্রিস। এ দেশের মানুষ অধিক পরিশ্রমী ও কট্টর খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাসী। বর্তমান সরকার খুব বেশি বিনিয়োগবান্ধব। গ্রিসের সরকারব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাংলাদেশের মতো ৩০০টি আসন নিয়ে সংসদীয় পদ্ধতিতে পরিচালিত। নির্বাচিত সাংসদের সমর্থনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় ৫ বছরের জন্য। প্রতি ৫ বছর পরপর জনগণের ভোটে সংসদীয় পদ্ধতিতে সরকার গঠিত হয়। গ্রিসে ১ হাজার ২০০ থেকে ৬ হাজারের মতো দ্বীপ থাকলেও নগরায়ণসমৃদ্ধ দ্বীপ রয়েছে ১৬৬ থেকে ২২৭টির মতো।

default-image

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক দিয়ে গ্রিসকে ভূস্বর্গ বললেও কম হবে। গ্রিসের প্রতিটি দ্বীপ সৃষ্টিকর্তার বিশেষ দৃষ্টিতে যেন তৈরি। গ্রিসের আবহাওয়া ইউরোপের অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক বেশি আরামদায়ক, বলা যায় বাংলাদেশের আবহাওয়ার মতো অনেকখানি। অক্টোবর থেকে শীত শুরু হয় মার্চের দিকে কমতে শুরু করে এপ্রিলের দিকে সমাপ্তি ঘটে। মে থেকে শুরু হয় গ্রীষ্মকাল তখন প্রচুর পরিমাণে পর্যটকদের সমাগম ঘটে অভিবাসীসহ গ্রিসবাসীর কর্মব্যস্ততা শুরু হয়। শীতের সময় প্রায় লোক কর্মহীন হয়ে থাকে। বলা যায় গ্রীষ্মকালে গ্রিসে উপার্জনের প্রধান সময়। গ্রিসের অন্যতম আয়ের উৎস পর্যটন, তামাক প্রক্রিয়াকরণ, টেক্সটাইল, খনন ও পেট্রোলিয়াম। এ ছাড়া রয়েছে শিল্পপণ্য, শিপিং ও খাদ্য ইত্যাদি।

গ্রিসে বৈধ অবৈধ মিলিয়ে আনুমানিক ৪৫ হাজারের মতো বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন। এর মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজারের মতো অবৈধ রয়েছে। এখানে বৈধ হওয়ার জন্য কয়েকটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এর মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করলে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সপরিবারে স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে। যারা সাত বছর গ্রিসে বসবাস করছে, এমন বৈধ ডকুমেন্ট দাখিল করতে পারলেও ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায়। এ ছাড়া রাজনৈতিক আশ্রয় ও গ্রিক নাগরিক বিয়ে করলেও নাগরিকত্ব মেলে।

default-image

প্রবাসী বাংলাদেশিরা গার্মেন্টস কারখানা, মিনি মার্কেট ব্যবসা, হোটেল, রেস্তোরাঁসহ নানান ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। গ্রীষ্মকালে দ্বীপে হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁগুলোয় ব্যাপক কর্ম সৃষ্টি হয় সেখানে বাংলাদেশিদের ও উপার্জনের প্রধান মাধ্যম।

উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার অভিবাসীদের ব্যাপারে খুব বেশি কড়াকড়ি আইন তৈরি করে রেখেছে। এ কারণে বর্তমানে গ্রিসে বসবাসকারী অভিবাসীদের আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন। এর আগেও বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালে প্রবাসীদের কষ্টে সময় পার করতে হয়েছে। গ্রিসের অন্য দলগুলোর নীতিমালা প্রবাসীবান্ধব হওয়ার কারণে প্রবাসীরা গ্রিসে বসবাস করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই এই সরকারের পর আবার শান্তিতে বসবাস করতে পারবে বলেই প্রবাসীরা আশাবাদী হয়ে বর্তমান সাময়িক কষ্টকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অনেক প্রবাসী।

default-image

গ্রিসে উঁচু দালানকোঠা বন্ধ অবস্থায় রাখা আছে সেখানে ব্যাপক হারে চীনারা বিনিয়োগ করে অবস্থান তৈরি করেছে। গ্রিস পর্যটননির্ভর দেশ হওয়াতেই ব্যাপক হারে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করে সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সামগ্রিক বিবেচনায় গ্রিস অমিত সম্ভাবনাময় একটি দেশ, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও দীর্ঘ তিন যুগেরও অধিক সময় থেকে সুখে–শান্তিতে অনেকে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0