আজ সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয় পরীক্ষা। সোয়া এক ঘণ্টার পরীক্ষা শেষে বেলা ১১টায় শিক্ষার্থীরা মূল মঞ্চের সামনে জড়ো হয়। চমক হাসানের লেখা ‘মন মেলে শোন শুনতে পাবি বিজয়ের আহ্বান’—গণিত উৎসবের এ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব পর্ব। গান পরিবেশন করে গানের দল ‘নকশীকাঁথা’।

ধানমন্ডি গবর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনায়েদ হোসেন এবার প্রথমবার গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েছে। সে বলল, ‘গণিতের এই উৎসবে এসে ভালো লাগছে। এবার প্রশ্নের ধরন বুঝতে পেরেছি। আগামীবার আরও ভালো করতে পারব।’

মঞ্চে জাদু পরিবেশন করেন স্বপন দিনার। এরপরই হয় রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতা। ১২ সেকেন্ডে কিউব মিলিয়ে তাতে বিজয়ী হয় আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুদীপ্ত সারওয়ার। সে বলল, ‘চার বছর ধরে রুবিকস কিউব অনুশীলন করি। বুদ্ধিদীপ্ত এই খেলা ভালো লাগে।’

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা মহানগরের সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরির দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর আগে গতকাল শুক্রবার উৎসবের প্রথম দিনে প্রাইমারি ও জুনিয়র ক্যাটাগরির প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।  

মিরপুর থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলেকে নিয়ে উৎসবে আসেন হোসেনে আরা। তিনি বলেন, গণিতের ভীতি কাটাতে এই উৎসব ভালো। তাঁর বুয়েটপড়ুয়া বড় ছেলেও এই উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন।

মঞ্চে যক্ষ্মা সচেতনতা নিয়ে গম্ভীরা গান পরিবেশন করেন জলপুতুলের শিল্পীরা। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অধীনে আইসিডিডিআরবি পরিচালিত ইউএসএআইডিস অ্যালায়েন্স ফর কমব্যাটিং টিবি ইন বাংলাদেশ কার্যক্রম এই গম্ভীরার আয়োজন করে।

‘গণিতের প্রশ্ন, গণিতের উত্তর’ গণিত উৎসবের প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয় বেলা দুইটায়। শিক্ষার্থীরা গণিত ও বিজ্ঞান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করে। তার জবাব দেন উপস্থিত অধ্যাপক ও গণিতবিদেরা। এ পর্ব পরিচালনা করেন গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির একাডেমিক কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান।

প্রশ্নের উত্তর দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন, গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, গণিত অলিম্পিয়াডের একাডেমিক কাউন্সিলর আশরাফুল আল শাকুর ও এস এম মাহ্তাব হোসাইন।

বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির প্রয়াত সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন এবং গণিতবিদ অধ্যাপক লুৎফুজ্জামানের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সমাপনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান। তিনি বলেন, জীবন গণিতময়। জীবনে বড় হতে চাইলে গণিতের প্রয়োজন। জীবনের প্রয়োজনে প্রায়োগিক গণিত শিখতে হবে।

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদী বলেন, শিক্ষার্থীরা গণিত অলিম্পিয়াড থেকে অনেক কিছু শিখতে পারছে। বিজ্ঞানকে ধারণ করবে, সমাজকে আরও এগিয়ে নেবে৷ অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, শিশুদের প্রতি আরও যত্নশীল হবেন। সমাপনী পর্বে আইডিয়াল স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা হতে হতে প্রায় বিকেল। ঢাকা আঞ্চলিক উৎসবে সেকেন্ডারিতে বিজয়ী হয়েছে ১২৭ জন। হায়ার সেকেন্ডারিতে বিজয়ী হয়েছে ৪১ জন। এই বিজয়ীরা ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় গণিত উৎসবে অংশ নেবে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণিত অলিম্পিয়াডের একাডেমিক কাউন্সিলর জাহিদ হোসাইন খান।

গণিত উৎসবস্থলে ছিল প্রথমা প্রকাশন, কিশোর আলো, বিজ্ঞানচিন্তা, তাম্রলিপি, দ্বিমিক, ল্যাববাংলা, আদর্শ এবং স্বপ্ন ৭১ প্রকাশনীর স্টল। উৎসবে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করে ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল। যক্ষ্মা নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার ও বিনা মূল্যে যক্ষ্মা নির্ণয় ক্যাম্প করে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)।

ফলাফল ও উৎসবের অন্যান্য খবর মিলবে গণিত অলিম্পিয়াডের ওয়েবসাইট এবং অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে

এবারের এই উৎসবের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হবে বাংলাদেশ দল। দলটি চলতি বছরের জুলাই মাসে জাপানের চিবা শহরে অনুষ্ঠেয় ৬৪তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে। এবার গণিত উৎসবের জন্য সারা দেশ থেকে অনলাইনে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রথমে ‘অনলাইন বাছাই অলিম্পিয়াড’ অনুষ্ঠিত হয়। বাছাই অলিম্পিয়াডের বিজয়ীদের নিয়ে এখন ২০টি শহরে ‘আঞ্চলিক গণিত উৎসব’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।