অবৈধ সংযোগে বিদ্যুৎ ব্যবহারের শাস্তি হয়নি

পুরান ঢাকার কিছু এলাকায় অবৈধ সংযোগ দিয়ে ডিপিডিসির বিদ্যুৎ চুরি করার ঘটনায় কারোরই শাস্তি হয়নি। কিছু সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেই দায়িত্ব শেষ করেছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)। জরিমানা বা অন্য কোনো শাস্তি না হওয়ায় অবৈধ সংযোগ নেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে।
সম্প্রতি শাঁখারীবাজার, কোতোয়ালি রোড ও পাটুয়াটুলীর কিছু এলাকা ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়। গত ১৭ ডিসেম্বর প্রথম আলোয় ‘অবৈধ সংযোগে ৪০০ টাকায় যত খুশি বিদ্যুৎ ব্যবহার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদনে শাঁখারীবাজার, পানিটোলা, ঝুলনবাড়ি, কোতোয়ালি, পাটুয়াটুলী প্রভৃতি এলাকায় অবৈধ লাইনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
এলাকায় গেলে শাঁখারীবাজারের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন এসে এলাকায় ২৫টির মতো অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। অবৈধ সংযোগের সুযোগ নেওয়া গ্রাহকদের সতর্কও করে দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁদের আর্থিক জরিমানা করা হয়নি। কোনো কোনো গ্রাহক অবশ্য অভিযানকারীদের বলেছিলেন, বিদ্যুতের (ডিপিডিসি) লোকদের সাহায্যেই তাঁরা অবৈধ সংযোগ নিয়েছিলেন।
ওই সময়ে কিছু বৈধ গ্রাহক অবৈধ সংযোগ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানান। কিন্তু ডিপিডিসির আর কোনো দল এরপর আর অভিযানে আসেনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডিসেম্বরের অভিযানের পর পাটুয়াটুলী, কোতোয়ালি রোড এলাকায় আবারও অবৈধ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দোকানে বিদ্যুতের মিটার বন্ধ করার পরও বাতি জ্বলছে কি না, তা পরীক্ষা করলেই অবৈধ সংযোগ শনাক্ত করা সম্ভব বলে ওই সূত্র জানায়।
পানিটোলা, ঝুলনবাড়ি এলাকায় গত ডিসেম্বরে ১০টির মতো দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। গতকাল এসব দোকানের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, তাঁরা নতুন করে আর সংযোগ নেননি। তাঁরাও স্বীকার করেন, এলাকায় ডিপিডিসি আর কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি।
ডিপিডিসির সচিব মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ চুরি ও রাজস্ব ফাঁকির অপরাধে ব্যাপক অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং হচ্ছে। শাঁখারীবাজারসহ পুরান ঢাকায়ও অভিযান হবে এবং অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হবে।