জানতে চাইলে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ই-নিডজ নামের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, এমডিসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক গ্রাহক। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

করোনা মহামারি দেখা দিলে দেশে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গ্রাহকসংখ্যা বাড়তে থাকে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ব্যবসা খুলে গ্রাহকের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করে। গ্রাহকের টাকা নিয়ে পণ্য বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতারণার অভিযোগে একাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তি গ্রেপ্তার হন।

২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
গুলশান থানায় দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগ অনুসারে, ই-নিডজ নামের প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রাহকের প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

মামলায় বাদী আবদুল্লাহ আল নোমান তিনিসহ আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহকের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁরা হলেন হাবিবুরের রহমান, ছাদিয়া আফরিন, রাশেদ খান, আবুল হাসান, মাহাবুবুর রহমান, সাদেক হোসেন, আবদুল আজিজ, ইমরান দেওয়ান, শাহাদাত হোসেন, নেয়ামুল হক, আবদুল হালিম, মশিউজ্জামান।

মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল নোমান প্রথম আলোকে বলেন, টাকা নিয়ে শতাধিক গ্রাহককে পণ্য না দিয়ে ই-নিডজের চেয়ারম্যান ওয়াহিদসহ অন্য আসামিরা টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা সরাসরি ই-নিডজের অফিসে যান। তখন কোনো কোনো গ্রাহককে টাকা ফেরতের চেক দেওয়া হয়। চেক নগদায়নের তারিখ ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু ব্যাংকে গিয়ে জানা যায়, ই-নিডজের ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা নেই।

আবদুল বারেক নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ই-নিডজের পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য কিনতে উৎসাহী হন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে ৯ লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেল ও মুঠোফোন কেনার জন্য ক্রয়াদেশ দেন তিনি। টাকাও পরিশোধ করেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো পণ্য বুঝে পাননি।

আবদুল বারেক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ই-নিডজ আমাকে কোনো পণ্য দেয়নি। টাকাও ফেরত দেয়নি। এখন শুনছি, কোম্পানির চেয়ারম্যান ও এমডি গ্রাহকের টাকা ফেরত না দিয়ে দেশ ছেড়েছেন।’

এক নম্বর আসামির ভাষ্য
আবদুল্লাহ আল নোমানের করা মামলার এক নম্বর আসামি ই-নিডজের সিইও আবদুল কাইয়ুম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত বছর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল গ্রেপ্তার হলে তিনি ই-নিডজ সম্পর্কে খোঁজ নেন। তাঁর কাছে প্রতিষ্ঠানটির কিছু অসংগতি ধরা পড়ে। এরপর তিনি এই প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে দেন। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আবদুল কাইয়ুম বলেন, গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার তথ্য তিনি জানেন না। ই-নিডজের মালিকদের সঙ্গে এখন আর কোনো যোগাযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি।

অর্থ পাচারের অভিযোগ
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গুলশান থানা-পুলিশের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ই-নিডজের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।