ইশরাত শামীম বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধারের পর অনেক সময় ঘটনার জন্য তাঁর ওপরই দোষ চাপিয়ে গালাগালি করা হয়। পুলিশ সদস্যদের বুঝতে হবে ওই নারী ইচ্ছা করে পাচারের শিকার হননি। তাই তাঁদের সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। আমি পাচারের শিকার নারী, শিশুদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা কী ধরনের আচরণ করবে, তার ওপর বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ দিয়েছি।’

মানব পাচারে অধিকাংশ মামলার শাস্তি হয় না উল্লেখ করে কর্মশালায় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা বলেন, মানব পাচার একটি আন্তদেশীয় অপরাধ। তাই বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করা যায় না। ফলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন করতে না পারায় শাস্তি নিশ্চিত করা যায় না। আবার অনেক সময় দেখা যায়, দেশ কিংবা বিদেশ থেকে পাচারের শিকার ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করার পর পাচারকারী চক্রের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা টাকার বিনিময়ে আপস করে ফেলেন। এসব কারণে মানব পাচারের মামলায় জড়িত অপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে না।

মানব পাচার রোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বক্তরা বলেন, মানব পাচার রোধে হটলাইন চালু করা, সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো ও যেসব দেশে বেশি পাচারের ঘটনা ঘটে, ওই সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, তথ্য আদান–প্রদানের ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি যেসব এলাকা থেকে মানুষ বেশি বিদেশ যান, ওই সব এলাকায় জনসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি নিয়ে মানুষকে সচেতন করার প্রতি জোর দেন বক্তারা।

কর্মশালার প্রধান অতিথি সিআইডির প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের পাসপোর্ট, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যায় না। আবার কেউ বিদেশে মারা গেলে মৃত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া যায় না। এসব কারণে মামলা তদন্তে বেগ পেতে হয়। মানব পাচার রোধে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। কর্মশালায় বাংলাদেশে মানব পাচার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন