বিজ্ঞাপন

মিতু হত্যায় বুধবার পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং বাবুল আক্তারকে ১ নম্বর আসামি করে নতুন মামলা দায়েরের পর প্রথম যে প্রশ্নটি ওঠে, তা হলো মুসা এখন কোথায়? বুধবার পিবিআইয়ের উপমহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মুসাকে মিতু হত্যার ঘটনাস্থলে দেখা গেছে। তিনি বাবুল আক্তারের সোর্স এবং পলাতক।

পুলিশের খাতায় মুসা পলাতক হলেও পান্না আক্তার বলেন, কাঠঘর তিন রাস্তার মোড় থেকে তাঁর চোখের সামনে দিয়ে পুলিশই মুসাকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকে মুসা নিখোঁজ। নতুন মামলায় বাবুল আক্তার ১ নম্বর আসামি, মুসা ২। পান্না আক্তারের প্রশ্ন, মুসাকে বলা হচ্ছিল এই ঘটনার নির্দেশদাতা। আর কেউ নির্দেশ দিলে কেন তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে হত্যা করবেন? এই প্রশ্নের জবাব পুলিশ খোঁজেনি।

পান্না আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, মুসা ‘প্রশাসনের’ সোর্স ছিলেন। বাবুল আক্তারের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এমনকি বাবুল আক্তার যখন সুদানে যান, তখনো তিনি মুসার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। ২০১৬ সালের ৫ জুন যেদিন মিতু খুন হন, সেদিন তিনি তাঁর স্বামীর সঙ্গে চট্টগ্রামের কালামিয়া বাজারের বাসায় ছিলেন। বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি মুসাকে বাসায় রেখে রাঙ্গুনিয়ায় বাবার বাসায় চলে আসেন।

হঠাৎ শুনতে পান তাঁদের বাড়িতে পুলিশ গেছে। নানা জায়গায় সাদাপোশাকে পুলিশ মুসার খোঁজ করছে। এর মধ্যে মুসা তাঁদের রাঙ্গুনিয়ার বাসায় চলে আসেন। মুসা একাধিক ফোন ব্যবহার করতেন। একবার একটা ফোন পান্নার কাছে রেখে তিনি বেরিয়েছিলেন। এ সময় টিঅ্যান্ডটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ও প্রান্তে কে কথা বলছিলেন তিনি জানেন না। তবে ওই ব্যক্তি তাঁকে বলেন মুসা যেন সাবধানে থাকে।

মুসা বাসায় ফিরলে পান্না জিজ্ঞেস করেন, কেন তাঁকে পুলিশ খুঁজছে? কেনই-বা ফোন করে তাঁকে সাবধানে থাকতে বলা হচ্ছে।

পান্না আক্তার বলেন, প্রথমে মুসা বিষয়টি এড়িয়ে যান। এর মধ্যে যে মোটরসাইকেল মিতু হত্যায় ব্যবহার হয়েছিল সেটি খুঁজতে পুলিশ রাউজান পৌঁছায়। এ সময় বাবুল আক্তার ফোন করেন। পান্না তখন মুসার পাশেই বসা। ওই প্রান্তের কথা পরিষ্কার শুনতে না পেলেও, মুসা বলেন, ‘আমার পরিবারের কিছু হলে আমি কিন্তু মুখ খুলব স্যার।’ পান্নার ধারণা, কথোপকথনটি হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৮ বা ১৯ জুন।

এবার পান্না সরাসরি মুসাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি মিতু হত্যায় জড়িত কি না। জবাবে মুসা তাঁকে বলেন, বাবুল আক্তার তাঁকে খুন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি রাজি হননি। তবে লোক দিয়েছিলেন। এই কাজে সহায়তা না করলে বাবুল তাঁকে ফাঁসিয়ে দেবেন, এমন আশঙ্কা করছিলেন। বাবুল তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, তিনি ‘শেল্টার’ দেবেন। মুসার কিছু হবে না।

পান্না আক্তার বলেন, পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছিল। তাঁদের পরিবারে আর কোনো পুরুষ ছিল না। এ অবস্থায় মুসা ২২ জুন আদালতে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।

মুসা একাধিক ফোন ব্যবহার করতেন। একবার একটা ফোন পান্নার কাছে রেখে তিনি বেরিয়েছিলেন। এ সময় টিঅ্যান্ডটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ও প্রান্তে কে কথা বলছিলেন তিনি জানেন না। তবে ওই ব্যক্তি তাঁকে বলেন, মুসা যেন সাবধানে থাকে।

ওই দিনই পুলিশ তাঁর হাতে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে চলে যায়। তারপর প্রচার করে মুসা পলাতক। পান্নার কথা হলো, যদি মুসা দেশ ছেড়ে পালাতেন, তাহলে পাসপোর্ট নিয়ে যেতেন। পাসপোর্ট এখনো তাঁদের বাসায়। সন্তানদের খোঁজ নিতেন। নেননি। তাঁর দাবি, মুসা অন্যায় করলে বিচার হোক, তবু যেন তিনি কোথায় আছেন, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন