কাজির বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহ নিবন্ধনসহ নানা অভিযোগ

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের এক নিকাহ রেজিস্ট্রারের (কাজি) বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহ নিবন্ধনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুর রহমান।
জেলা রেজিস্ট্রার প্রভাকর সাহা বলেন, এ ব্যাপারে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য অভিযোগটি গত সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত ৯ ডিসেম্বর শ্রীরামপুর গ্রামে বাল্যবিবাহ হচ্ছে, সংবাদ পেয়ে সেখানে যাই। কিন্তু এর আগেই বিয়ে নিবন্ধন করে রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলাম সটকে পড়েন। পরে তাঁর ঘর থেকে বিবাহ রেজিস্ট্রারের দুটি বই জব্দ করা হয়। সেখানে নানা অনিয়ম দেখা যায়।’
ইউএনওর সই করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নিকাহ রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলামের ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর এবং ২০১৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০১৬ সালের ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যবহৃত দুটি রেজিস্ট্রার বই জব্দ করা হয়েছে। এ দুটি বইয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আরও তিনটি বাল্যবিবাহের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া বই দুটির ৫৭টি জায়গায় বর ও কনের জন্মের তারিখ লিপিবদ্ধ করা হয়নি। বই দুটির প্রায় ৯০ ভাগ জায়গায় বিবাহ পড়ানো ব্যক্তি, কনে ও কাজির সই নেই। কিছু জায়গায় সাক্ষীদের নাম আছে কিন্তু সই নেই। আবার কিছু জায়গায় বর ও কনের সই ছাড়া সব কলাম ফাঁকা রাখা হয়েছে। বেআইনি প্রক্রিয়ায় অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের জন্য এসব অনিয়ম করা হয়েছে।
ইউএনওর ওই অভিযোগ থেকে তথ্য নিয়ে সোমবার দক্ষিণ মুরাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় গিয়ে জানা যায়, মাদ্রাসার জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে ৮ ডিসেম্বর।
মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ কাজী শাহজাহান বলেন, মেয়েটির জন্ম ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি। জেডিসি পরীক্ষা দেওয়ার পর গোপনে মেয়েটির বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঝাটরা জলিসা ফাজিল মাদ্রাসার আরেক জেডিসি পরীক্ষার্থী ছাত্রীর বিয়ে হয় ৯ ডিসেম্বর। মাদ্রাসাটির সুপার নুরুদ্দিন বলেন, ‘মেয়েটির বিয়ে হয়ে গেছে, তা জানি না।’
এসব বিষয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এবারের মতো সংশোধন হওয়ার সুযোগ দান করতে এবং এ ধরনের কাজ আর হবে না—মর্মে তিনি অঙ্গীকার করে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।