রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. গোলাম কিবরিয়া জানিয়েছেন, কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে শফিকুল ইসলামকে একটি ধারায় যাবজ্জীবন (৩০ বছর) সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর একটি ধারায় শফিকুলকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় ১৪ বছর। উভয় সাজা একসঙ্গে চলমান থাকবে। আরেক যুবক ছানা মিয়াকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২০ মে সন্ধ্যায় ঝিনাইগাতী উপজেলার একটি গ্রামের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তার চাচার বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিল। আগে থেকে ওত পেতে থাকা যুবক শফিকুল ইসলাম ও ছানা মিয়া ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। এরপর শফিকুল কিশোরীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে তাঁকে ধর্ষণ করেন।

এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৪ মে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে শফিকুল ও ছানা মিয়াকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ঝিনাইগাতী থানায় মামলা করেন। পরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে একই বছরের ২৬ জুলাই ঝিনাইগাতী থানা-পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে। পরে ওই কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং আদালতে জবানবন্দি নেওয়া হয়।

মামলার তদন্ত শেষে ঝিনাইগাতী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র সরকার ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর শফিকুল ও ছানা মিয়ার নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে আদালত বুধবার বিকেলে ওই রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. গোলাম কিবরিয়া রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. জাহিদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ন্যায়বিচার পাননি। তাই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন