default-image

এক কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণ ও সেই ঘটনার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা যুবলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে গ্রেপ্তার ওই যুবনেতা আজ রোববার আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তির নাম কামরুল হাসান ওরফে কামাল। তিনি ঘিওর উপজেলার কালাচাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা।

জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাক জানান, ঘিওর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুলকে এই ঘটনায় সংগঠন থেকে মৌখিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যার দিকে ওই যুবলীগ নেতাকে আটক করা হয়। পরে রাতে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবা মামলা করেন। সেই মামলায় কামরুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর আজ তাঁকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তবে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া কথা স্বীকার করায় আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে ওই কিশোরীর বড় বোনের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে কামরুল ইসলাম তাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেই সূত্র ধরে তিনি প্রায়ই কিশোরীদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এতে ওই পরিবারের সঙ্গে কামরুলের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর থেকে ওই কিশোরীকে কামরুল বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে নিয়ে যেতেন। প্রায় দুই মাস আগে কামরুল কিশোরীকে নিয়ে ঢাকায় বেড়াতে যান। ঢাকার শ্যামলীর একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে কামরুল কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। এ সময় আগে থেকে হোটেল কক্ষে মোবাইল রেখে কৌশলে ওই ধর্ষণ ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন কামরুল। পরে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে কামরুলকে বিচারিক হাকিমের আদালতে পাঠানো হয়েছিল। তবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন