default-image

বনজ কুমার মজুমদার বলেন, এলাকায় ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত সাদিকুর রাজিয়ার কাছে ১০ হাজার টাকা ধার চান। রাজিয়া তখন সাদিকুরকে বলেছিলেন, বাসায় কোনো টাকা নেই। তিনি আলমারির তালা খুলে সাদিকুরকে দেখান, আছে মাত্র ১০০ টাকা। তখন সাদিকুর আলমারির ভেতরে একটা বাটিতে স্বর্ণালংকার দেখতে পান। একপর্যায়ে চেয়ারে বসে থাকা রাজিয়াকে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করেন সাদিকুর। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য পাশে থাকা ইস্তিরি দিয়ে আঘাত করেন। পরে ঘরে থাকা বঁটি দিয়ে রাজিয়ার গলা কাটেন সাদিকুর। আর ছেলে তালহা এ ঘটনা দেখে ফেলায় তাকেও গলা কেটে হত্যা করেন সাদিকুর।

হত্যার কারণের বিষয়ে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, সাদিকুর এলাকার ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তবে সাদিকুর আইপিএল উপলক্ষে জুয়া খেলে ৭০ হাজার টাকা ঋণগ্রস্ত হন। পাওনাদারেরা তাঁকে টাকা ফিরিয়ে দিতে চাপ দেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান সাদিকুর। ওই টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তিনি এ জোড়া খুন করেছেন।

হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের ব্যাপারে পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, জোড়া খুনের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে বাড়ির পেছনে সুপারিগাছে মাটি দেখতে পাওয়া যায়। এই সুপারিগাছ ব্যবহার করে রাজিয়ার ঘরে প্রবেশ করা যায় না। তবে সুপারিগাছ ব্যবহার করে ওপরে উঠে ঘরের ভেতরের বাথরুমের কিছু অংশ দেখা যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজিয়ার ঘরের পেছনে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে স্থানীয় কিছু যুবক গেম খেলেন। তখন খোঁজ নিয়ে অজিদ কাজী নামের এক যুবকের সন্ধান মেলে। জিজ্ঞাসাবাদ অজিদ জানান, সেদিন রাতে ঘরে চিৎকার শুনে সুপারিগাছ ব্যবহার করে ওপরে উঠে ভেন্টিলেটর দিয়ে সাদিকুরকে দেখতে পান তিনি। ওই সময় সাদিকুরকে দ্রুত ঘর থেকে বাইরে যেতে দেখেন। অজিদ কাজী এই ঘটনা কাউকে জানাননি। তবে হত্যাকাণ্ডের পর সাদিকুর অজিদ কাজীকে হত্যার হুমকি দিয়ে এ ঘটনা কাউকে না জানাতে বলেন।

এদিকে নিহত রাজিয়ার বৃদ্ধ মা খন্দকার তাসলিমা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর নিরীহ মেয়ে ও নাতিকে হত্যা করেছেন সাদিকুর। তাঁর ফাঁসি চান তিনি।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন