খুলনায় 'বন্দুকযুদ্ধে চরমপন্থী' নেতা নিহত

খুলনায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ বলছে, তিনি ‘চরমপন্থী নেতা জিয়া সানা ওরফে হাতকাটা জিয়া (৪৫)’। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নগরের হরিণটানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জিয়া সানার বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া গ্রামে। উপজেলার কৈয়া বাজারে তাঁর বাড়ি।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমানের ভাষ্য, জিয়া ‘চরমপন্থী সংগঠন নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির’ সেকেন্ড ইন কমান্ড। তাঁর বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় ছয়টি হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন থানায় কমপক্ষে নয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলায় তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তিনি পলাতক ছিলেন। জিয়া খুলনায় ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি পিস্তল, একটি পাইপগান, দুটি পিস্তল, বন্দুকের দুটি গুলি, দুটি গুলির খোসা, দুটি রামদা ও ৫০টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা সম্পর্কে ওসি মিজানুর বলেন, ডাকাতির প্রস্তুতির গোপন খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে হরিণটানার সাউথ বাংলা আবাসিক প্রকল্প এলাকায় পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি শুরু করে ডাকাতেরা। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়। এরপর ঘটনাস্থলে জিয়াকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযানে এক উপপরিদর্শকসহ পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই ফরিদ আহমেদ, কনস্টেবল রবিউল ইসলাম, বদরুল আলম ও দেবব্রত বিশ্বাস। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় হরিণটানা থানার এসআই নূরুল আমিন বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে দুটি মামলা করেছেন।