বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও খোয়া যায় পাঁচ হাজার পিস কাপড়। এবার ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান নেটওয়ার্ক ক্লোথিং লিমিটেড। তাদের তৈরি শিশুদের পোশাক চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে জার্মানিতে যাচ্ছিল। নেটওয়ার্কও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করে।
দুটি ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার আজ রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঘটনাটি চুরির হলেও এ ধরনের চুরি দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করছিল। পণ্য খোয়া যাওয়ায় গার্মেন্টস কারখানাগুলোকেও ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছিল। শুধু জয়ন্তীকেই ২৮ হাজার ৯০৮ ডলার জরিমানা দিতে হয়েছে ক্রেতাকে।

default-image

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আরও জানান, ডিবির সাম্প্রতিক অভিযানে এই চোর চক্রের প্রধান সাঈদ ওরফে সিলেটি সাঈদ এবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ২৪টি মামলা রয়েছে। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজারে। সেখানে তিনি দ্বিতল ভবন, ইটভাটা ও ট্রাকের মালিক। দুই স্ত্রীর স্বামী তিনি। এক স্ত্রী লন্ডনে, অন্যজন বাংলাদেশে থাকেন। চট্টগ্রামের ছয় মামলায় দীর্ঘদিন জেল খেটে বেরিয়ে তিনি আবারও সক্রিয় হন।
জিজ্ঞাসাবাদে সাঈদ জানান, চোর চক্র অন্তত পাঁচ হাজার ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান থেকে পণ্য চুরি করেছে। এ সময় খোয়া যাওয়া পণ্যের দাম কয়েক হাজার কোটি টাকা।
হাফিজ আক্তার আরও বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে মহাসড়কে মূলত এই চুরির ঘটনা ঘটছে। বন্দরে যাওয়ার পথে পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে চোর চক্র মালামাল নামায়। পরে এগুলো তারা ছোটখাটো বায়িং হাউজকে বিক্রি করে দিত।
আসামি গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেন তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহাদৎ হোসেন সুমা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মো. সাহেদ ওরফে সাঈদ ওরফে সিলেটি সাঈদ বহু মামলার পলাতক আসামি। তাঁকে র‌্যাব ও পুলিশের বেশ কয়েকটি শাখা খুঁজছিল।

জয়ন্তী নিট ওয়্যার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করে ১২ সেপ্টেম্বর। এর এক দিন পরই ডিবি ঢাকা মহানগরী এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাভার্ড ভ্যানের চালক মো. ইমরান, মো. মহিউদ্দিন, মোববারক ও ইব্রাহীমকে গ্রেপ্তার করে। ওই মামলায় গাড়ির চালক মো. ইমরান হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

১৭ সেপ্টেম্বর আরও একটি অভিযান চালিয়ে ঢাকার উত্তরা থেকে ডিবি পুলিশ তৈরি পোশাকসহ রাজ্জাক, ইউসুফ, মাঈনুলদের গ্রেপ্তার করে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার বুড়িচং থানার নিমসার এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে তৈরি পোশাকসহ আল আমিন ও দুলাল গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তার আসামিদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৭০৫ পিস পোশাক উদ্ধার করা হয়। এই দলটির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সাঈদ জানিয়েছেন, ২০০০ সাল থেকেই তিনি গার্মেন্টস পণ্য চুরি করে আসছেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের তিনি বলেছেন, তাঁদের এই চোর চক্রে আরও ২০ থেকে ৩০ জন রয়েছেন।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন