বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় গতকাল বুধবার রাতে র‌্যাব-১৪–এর একটি দল গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি আবদুল কাদের জিলানী, মো. লাল মিয়া ও মো. রাকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। আবদুল কাদের জিলানীর দেওয়া তথ্যে র‌্যাব তাঁর বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড় থেকে প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করে। এর ভেতর থেকে দুটি চাপাতি, একটি লোহার রড, একটি বড় দা উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য দেন আসামিরা।

র‌্যাব জানায়, নিহত আবুল কালামের ভাতিজা মো. সোহাগ ছিলেন রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার সাক্ষী। সেই মামলায় সোহাগ সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে গ্রেপ্তার হওয়া জিলানী ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে মালধোর ও বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দেন। এর জেরে ঘটনার দিন সোহাগ বাড়িতে ফেরার পথে জিলানী ও তাঁর সহযোগীরা হামলা চালান। সোহাগের চিৎকারে তাঁর চাচা আবুল কালাম ও অন্যরা এগিয়ে এলে জিলানী, লাল মিয়া, রাকিবুল ইসলামসহ ৯ জন তাঁদের ওপর হামলা চালান। তাঁদের হামলায় প্রথমে আহত হন আবুল কালাম। পরে হাসপাতালে মারা যান।

র‌্যাব জানায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিন মাস্টার ও রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলা থেকে বাঁচার জন্য জিলানী ও তাঁর সহযোগীরা আবুল কালামকেও হত্যা করেন। এ নিয়ে মোট তিনটি হত্যার ঘটনা ঘটায় জিলানী বাহিনী। তারা বিভিন্ন সময় জালিয়াতির মাধ্যমে এলাকার কৃষকদের ভূমি দখল করে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে অতিরিক্ত মুনাফায় বিক্রি করত। তাদের এ কাজের বিরোধিতা করায় ২০১৮ সালের ৪ জুলাই জিলানী বাহিনী মতিন মাস্টারকে হত্যা করে তাঁর গলাকাটা লাশ পুকুরে ফেলে রাখে। এ হত্যা মামলায় জিলানীর ভাই তোফাজ্জল হোসেনসহ আটজনের নামে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। এরপর ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দপ্তরি রফিকুল ইসলামকে হত্যা করে জিলানী বাহিনী। এতে আবদুল কাদের জিলানীসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়।

র‌্যাব জানায়, আবদুল কাদের জিলানী ভূমি দখলসহ নানা অপকর্মের জন্য ২০ থেকে ২৫ জনের একটি বাহিনী গড়ে তোলেন এলাকায়।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন