বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবুল হাসান নামে এক প্রবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। পুলিশ জানায়, সৌদি আরব থেকে দুই বছর আগে দেশে ফেরেন আবুল হাসান। পরে জানতে পারেন সেখানে তাঁর হোটেল ব্যবসা হাতিয়ে নিয়েছেন সৌদি আরবের এক নাগরিক। হোটেল উদ্ধারের জন্য সে দেশে যাওয়াও সে সময় তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। নগরের হাজারী গলি এলাকায় স্ত্রীর গয়না বিক্রি করতে গিয়ে দোকান কর্মচারীর কাছ থেকে কথিত জিনের বাদশাহর সন্ধান পান। জিনের বাদশাহর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আবুল হাসানকে তাঁর হারানো সব ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর সৌদি আরবে হারানো হোটেল ও সেই সৌদি নাগরিককে জিনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে আবুল হাসানের কাছ থেকে ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ও স্বর্ণ হাতিয়ে নেন।

প্রতারণার শিকার আবুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘ ২২ বছর সৌদি আরব থেকে ২০১৮ সালে দেশে ফিরে আসেন তিনি। সেখানে হোটেল ব্যবসা করতেন। সৌদি এক নাগরিকের মাধ্যমে (কফিল) তাঁর হোটেল ব্যবসা পরিচালিত হতো। দেশে ছুটি কাটাতে এসে জানতে পারেন কফিল সৌদি আরব যাওয়া নিষিদ্ধ করেছেন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাজারী গলির একটি দোকানে স্ত্রীর গয়না বিক্রি করতে যান।

তখন ওই দোকানের কর্মচারী ও প্রতারক চক্রের সদস্য আবু তৈয়ব প্রবাসীকে বুদ্ধি দেন জিনের বাদশাহ আছেন একজন। তিনি সৌদি আরব থেকে কফিলকে দেশে নিয়ে আসতে পারবেন। এ জন্য জিনের বাদশাহকে দুই লাখ টাকা, তিন ভরি সোনা ও এক হাজার ডলার দিতে হবে। কিন্তু বিষয়টি কারও সঙ্গে আলাপ করা যাবে না। তাতে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। কথামতো আবুল হাসান প্রথমে দুই লাখ ও তিন ভরি সোনা তুলে দেয় জিনের বাদশাহর হাতে। পরে বিভিন্নভাবে বিকাশের মাধ্যমে নেন আরও ৩৬ হাজার টাকা। একসময় তিনি কথিত জিনের বাদশাহর প্রতারণা আঁচ করতে পেরে বিষয়টি পুলিশকে জানান।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার জিনের বাদশাহসহ তিন আসামি স্বীকার করেছেন তাঁরা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তাঁরা জিনের বাদশাহর কাছে নিয়ে যান। কাজের কথা বলে মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেন। ভয়ে লোকজন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেন না।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন