default-image

মো. আবদুল খালেক খানের বাড়ি পাবনা। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় থাকেন। স্ত্রী ও সন্তান দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েও কাজ হয়নি। এর মধ্যে গত বছরের অক্টোবরে পরিচয় হয় তারিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। যোগাযোগের একপর্যায়ে তারিকুল জানান, তিনি বিশেষ চিকিৎসা দেন। তাঁর দেওয়া কিছু ওষুধে খালেকের স্ত্রী-সন্তান খানিকটা সুস্থ হন।

এরপর খালেকের কাছে নিজেকে জিনের বাদশা দাবি করেন তারিকুল। বলেন, খালেকের যত টাকা দরকার, তত টাকা তৈরি করে দিতে পারবেন। প্রমাণ হিসেবে খালেকের সামনেই সাদা কাগজ থেকে ১ হাজার টাকার একটি চকচকে নোট তৈরি করে দেন। আবার পুরোনো নোটও তৈরি করে দেখান। সরল বিশ্বাসে তারিকুলের হাতে টাকা তুলে দেন খালেক। এমনকি পরিচিতজনদের কাছ থেকেও টাকা আনেন। মোট ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা দেন খালেক। তারিকুল ও সহযোগীরা সেই টাকা নিয়ে চম্পট দেন।

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) শেখ ওমর ফারুক। তিনি জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে চক্রের মূল হোতা জিনের বাদশা পরিচয়দানকারী তারিকুল ইসলাম (৪০), তাঁর সহযোগী আবদুল্লাহ বিশ্বাস (৩৩), আল মাসুম (২৮) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে রাজুকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা, যশোর ও মাগুরায় অভিযান চালিয়ে এই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। তাঁদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেট কার, নগদ ১৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, সাদা কাগজসহ বাক্স, মাজারের মাটি, লাল কালিতে আরবি লেখা কাগজ জব্দ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শেখ ওমর ফারুক বলেন, তারিকুলের চিকিৎসায় স্ত্রী ও সন্তান খানিকটা সুস্থ হওয়ায় তাঁর ওপর আস্থা তৈরি হয় ভুক্তভোগী খালেক খানের। এরপরই টাকার ফাঁদ পাতেন তারিকুল। প্রতারক জিনের বাদশা খালেককে বলেন, যত টাকা দরকার তত টাকা তিনি তৈরি করে দিতে পারবেন। প্রমাণ হিসেবে জিনের বাদশা খালেকের সামনেই একটি বালতির মধ্যে রাখা সাদা কাগজে ১০০০ টাকার একটি চকচকে নোট তৈরি করে দেন।

বিশ্বাস পাকাপোক্ত করতে খালেক জিনের বাদশাকে বলেন, ‘এটা তো নতুন নোট আপনি কিছু পুরোনো টাকা তৈরি করে দেখান।’ এরপর জিনের বাদশা ওই বালতির মধ্যে কিছু পুরোনো টাকা তৈরি করে দেখান। ম্যাজিকের মতো এমন ঘটনা দেখে খালেকের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়।

সিআইডি কর্মকর্তা শেখ ওমর ফারুক বলেন, জিনের বাদশা একটি শর্তে খালেকের চাহিদা অনুযায়ী ছয় কোটি টাকা তৈরি করে দিতে রাজি হন। শর্তটি ছিল, পৃথিবীর সব মসজিদে পবিত্র কোরআন শরিফ কিনে দিতে হবে খালেককে। কোরআন শরিফগুলো কিনতে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লাগবে।

শেখ ওমর ফারুক বলেন, ‘জিনের বাদশা হিসেবে পরিচয় দেওয়া তারিকুল ইসলামের কথায় বিশ্বাস করে বাজার থেকে ছয় কার্টন এ ফোর সাইজের সাদা কাগজ কিনে আনেন খালেক। কাগজ কিনে আনার পর জিনের বাদশা বলেন, ‘আপনারা যত দিন কোরআন শরিফ কেনার জন্য ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা দিতে পারবেন না, তত দিন কার্টনগুলো খুলবেন না।’ এ কথায় বিশ্বাস করে আবদুল খালেক কার্টনগুলো ঘরের এক কোনায় রেখে দেন।’

সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এমন প্রলোভনে আবদুল খালেক দফায় দফায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা জিনের বাদশাকে দেন। খালেকের পরিচিত একজন আরও ৫৩ লাখ টাকা দেন। মোট ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা দিতে দেরি হওয়ায় ২ লাখ টাকা ‘কাফফারা’ দাবি করেন তারিকুল। এই ২ লাখ টাকা পেতে খালেককে চাপও দেন তিনি।

একপর্যায়ে খালেকের সন্দেহ হতে থাকে। এমন সন্দেহে কার্টন খুলে খালেক দেখেন, টাকা তো দূরের কথা, সাদা কাগজ ছাড়া আর কিছুই নেই।

শেখ ওমর ফারুক বলেন, প্রতারক চক্রটি ঢাকা থেকে যশোরে গিয়ে বাকি দুই লাখ টাকা এসএ পরিবহনের মাধ্যমে পাঠাতে বলেছিল। এ চক্রের বিষয়ে ভুক্তভোগী সিআইডিতে অভিযোগ দিলে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিমের একটি টিম ফাঁদ পেতে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন