default-image

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মাদক কেনার টাকা না পেয়ে এক যুবক তাঁর মায়ের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ওই মায়ের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার চিকাশি ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে ওই আগুন দেওয়া ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া মায়ের নাম খুকি বেগম (৬৫)। আহত অবস্থায় তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, রাত আটটার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই খুকির মৃত্যু হয়েছে।

অভিযুক্ত ছেলের নাম সোহানুর রহমান ওরফে খোকন (২৯)। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোহানুর রহমান মাদকাসক্ত। মাদক কেনার টাকা না পেয়েই এই ঘটনা ঘটিয়েছে তিনি। স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে সোহানুরকে আটকের পর ধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তিনি প্রায় প্রতিদিনই ভয়ভীতি দেখিয়ে মা-বাবার কাছ থেকে মাদক কেনার টাকা নেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বিকেলেও তিনি মা-বাবার কাছে টাকা দাবি করেন। তবে তাঁরা টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এতে সোহানুর মা-বাবার ওপর খেপে যান। একপর্যায়ে তিনি মা-বাবার ওপর হামলা চালান। এ সময় সোহানুরের ভয়ে তাঁর বাবা বাড়ি ছেড়ে পালান। তখন সোহানুর বৃদ্ধ মা খুকি বেগমকে ধরে ঘরের মধ্যে নেন। এরপর খাটের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে মায়ের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় খুকি বেগমের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

গণধোলাইয়ের কারণে সোহানুরকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়েছে পুলিশ। পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন সোহানুর রহমান প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিনি ঘরের মধ্যে মোটরসাইকেলের পেট্রল বের করছিলেন। হঠাৎ ওই পেট্রলে আগুন লাগে। ওই আগুনেই মায়ের শরীর দগ্ধ হয়েছে। এলাকাবাসী মিথ্যা অভিযোগে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান বলেন, মাদকের টাকা না পেয়ে সোহানুর রহমান তাঁর মায়ের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। আগুনে খুকী বেগমের শরীরের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আটক সোহানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0