বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ঢাকার মার্কিন দূতাবাস আগে একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে লটারি-সংক্রান্ত কোনো ধরনের প্রোগ্রামে অংশ না নিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে।

ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওসহ যেসব বিজ্ঞাপন প্রচার করছে, তা অনেক মানুষ দেখছে, মন্তব্য করছে, শেয়ার করছে।

লটারির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের পাশাপাশি আবেদনের জন্য কোম্পানির নিজস্ব অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হচ্ছে। অ্যাপটি অস্বাভাবিক হারে ডাউনলোড হতে দেখা গেছে।

১৭ মার্চ পর্যন্ত অ্যাপটি ডাউনলোড হয় ২০ হাজার ৩২৫ বার। ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ডাউনলোড হয় ১ লাখের বেশি বার। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ডাউনলোড ২ লাখ ছাড়িয়ে যায়।

ইউএসএ ট্যুর ফেয়ার বলছে, ডিভির আদলে তারা নিজ উদ্যোগে ইউএসএ লটারি ২০২২ প্রোগ্রাম চালু করেছে। আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম এসএসসি বা দাখিল পাস। বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছর। নির্ধারিত ২০ হাজার আবেদন পরিপূর্ণ হয়ে গেলে আবেদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। লটারিতে বিজয়ী ১০ জন কোম্পানির খরচে আমেরিকায় স্থায়ী বসবাস করতে পারবেন। বাকি ৯০ জন মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় ৬ দিনের ট্যুর করতে পারবেন। লটারিতে অংশগ্রহণকারীরা আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও শেনজেন ভিসার জন্য কোম্পানির ভিসা প্যাকেজ নিলে লটারি ফি (২ হাজার ১০০ টাকা) ফেরত দেওয়া হবে।

default-image

ইউএসএ ট্যুর ফেয়ারের বিজ্ঞাপনে প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও লটারিতে অংশ নিতে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। এতে বলা হয়, প্রবাসীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও চলবে।

ফেসবুকে ইউএসএ ট্যুর ফেয়ারের বিজ্ঞাপনের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে দেখা গেছে, লোকজন জানতে চাইছেন, কীভাবে আবেদন করতে হবে। তবে কেউ কেউ কথিত এই ইউএসএ লটারিকে প্রতারণা বলে অভিহিত করেছেন।

খান গাফফার মোহাম্মদ নামের একজন লিখেছেন, ‘আপনারা তো প্রতারক। রোজার মধ্যে ধান্দাবাজি শুরু করেছেন।’

ইউটিউবের ভিডিও লিংকে রোহান খান নামের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ভাইরে ভাই, কী একটা স্ক্যাম (জালিয়াতি)। ২০ হাজার জনের লটারি। একেক জনের ২ হাজার ১০০ টাকা। ২০ হাজার জন গুণ ২ হাজার ১০০ টাকা করে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। যদি ভুয়া হয়, এক দিনে ওরা বড়লোক। আর যদি সত্যিও হয়, একজন যদি জিতেও যায়, এক লাখ মার্কিন ডলার ব্যাংকে দেখিয়ে বিজনেস ভিসা নিয়ে দেবে, বাকি টাকা পুরা গায়েব, হোয়াট আ স্ক্যাম ম্যান...।’

default-image

বিজ্ঞাপনটি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউএসএ ট্যুর ফেয়ারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইউএসএ লটারি প্রোগ্রামটি কোম্পানির উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে। এ প্রোগ্রামের সব দায়দায়িত্ব কোম্পানির।

ইউএসএ ট্যুর ফেয়ারের অন্যতম অংশীদার আনিসুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘লটারি বিজয়ী ১০ জনকে কোম্পানির খরচে আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়া হবে। লটারি বিজয়ীদের স্টুডেন্ট ভিসা, টুরিস্ট ভিসা ও জব ভিসা ইবি-থ্রির মাধ্যমে অদক্ষ ক্যাটাগরিতে ভিসা প্রসেস করা হবে। জব ভিসা ইবি-থ্রির ক্ষেত্রে বিজয়ী ব্যক্তিরা বিনা খরচে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন।’

বিজ্ঞাপনটির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি যা বলছে, তাতে সত্যতা না থাকলে, প্রতারণার বিষয় থাকলে, যে কেউ আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে পুলিশ সহযোগিতা করবে।’

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন