ঢাবির সনদ নিতে গিয়ে ভুয়া চিকিৎসক আটক

তৃতীয় বর্ষে অকৃতকার্য হলেও জাল নম্বরপত্র তৈরি করে নিজেকে উত্তীর্ণ দেখান জসিম উদ্দীন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সনদ’ ব্যবহার করে টাঙ্গাইলে চোখের চিকিৎসা করে আসছিলেন তিনি। সম্প্রতি তিনি বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন৷ সেই উদ্দেশ্যে নম্বরপত্র ও সনদ নিয়ে ট্রান্সক্রিপ্ট নিতে এক সপ্তাহ আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে আসেন তিনি। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, তাঁর কাগজপত্র ভুয়া। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই ব্যক্তিকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

ওই ব্যক্তির নাম মো. জসীম উদ্দিন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ অনুষদের অধীন পরিচালিত ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিষয়ে চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি কোর্সে ভর্তি হলেও তৃতীয় বর্ষে অকৃতকার্য হন। এরপর আর পরীক্ষায়ও অংশ নেননি তিনি। কিন্তু তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের জাল নম্বরপত্র তৈরি করেছেন এবং বিএসসির জাল সনদ তৈরি করে দিব্যি তিনি মানুষের চোখের চিকিৎসা করে আসছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের তিনজন কর্মকর্তার ভাষ্য, মো. জসীম উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তি জাল নম্বরপত্র ও সনদ নিয়ে ট্রান্সক্রিপ্ট করতে এক সপ্তাহ আগে রেজিস্ট্রার ভবনে আসেন। উদ্দেশ্য, বিদেশে চলে যাবেন। তাঁর কাগজপত্র দেখেই পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। তাঁকে ধরার জন্য কয়েক দিন ধরে পরিকল্পনা করা হয়। তাঁর কাছে সনদের মূল কপি চাওয়া হয়।

জাল সনদ
ছবি: সংগৃহীত

ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, মো. জসীম উদ্দিন যখন সনদের মূল কপিটি নিয়ে আসেন, সেটি দেখেই তাঁরা বুঝতে পারেন যে সনদটি ভুয়া। তারপর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় যে তৃতীয় বর্ষের পর জসীম ক্লাস-পরীক্ষা কিছুতেই অংশ নেননি। আজ বেলা আড়াইটার দিকে তাঁকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

রেজিস্ট্রার ভবনের একটি সূত্রের দাবি, ভুয়া সনদের এই বিষয়ের সঙ্গে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কেউ কেউ জড়িত ছিলেন। কারণ, বাইরের কারও পক্ষে এই প্রক্রিয়া জানা সম্ভব নয়। পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই তা বের করা সম্ভব।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শুনেছি যে আটক ব্যক্তি ভুয়া সনদ ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেন। তিনি এখন থানায় রয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।’