default-image

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম হত্যা মামলায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মামুনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই আদেশ দেন। পুলিশ জানায়, মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ধনাঢ্য রোগী এলে তিনি চুক্তিবদ্ধ হাসপাতালে পাঠাতেন। সেখান থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন পেতেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ ও তথ্য বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান মণ্ডল জানান, চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুনকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে আদাবর থানা-পুলিশ। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


এসআই মনিরুজ্জামান মণ্ডল জানান, এএসপি আনিসুল করিম হত্যায় আরও দুই আসামি আজ ঢাকার সিএমএম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা হলেন, মাইন্ড এইড হাসপাতালের কথিত ফার্মাসিস্ট তানভীর হাসান এবং ওয়ার্ডবয় তানিফ মোল্লা। এ নিয়ে এই হত্যা মামলায় মোট ছয়জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি চারজন হলেন হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় অসীম চন্দ্র পাল, মাসুদ খান, সজীব চৌধুরী এবং মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ।

বিজ্ঞাপন

তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ আজ সাংবাদিকদের বলেন, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাসা থেকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে আদাবর থানা-পুলিশ। এ নিয়ে এ হত্যা মামলায় মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। আনিসুল করিম হত্যায় ছয়জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা আদালতকে বলেছেন, আনিসুল করিমকে যখন মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়, তখন আবদুল্লাহ আল মামুন তাঁকে ভর্তি না করে ঢাকার আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালের ম্যানেজারকে ফোনে বলেন, ‘রোগী পাঠালাম।’ সেখানে আনিসুল করিমকে নেওয়া হয়। আনিসুল করিম ওয়াশ রুমে যেতে চাইলে ১০ থেকে ১২ জন মিলে তাঁকে মারধর করে হত্যা করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আবদুল্লাহ আল মামুন সরকারি প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক হলেও আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতাল, মাইন্ড রয়েল, টাঙ্গাইলের ঢাকা ক্লিনিকে প্র্যাকটিস করতেন। মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ধনাঢ্য রোগী এলে তিনি চুক্তিবদ্ধ হাসপাতালে পাঠাতেন। সেখান থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন পেতেন।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ আরও বলেন, আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে প্রাথমিকভাবে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কেন অন্য হাসপাতালে প্র্যাকটিস করেন। তিনি বলেন, অন্য চিকিৎসকেরা করেন, তাই তিনিও করেছেন। দালালের মাধ্যমে চিকিৎসকেরা অন্য হাসপাতালে রোগী পাঠাতেন।

এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ১৫ জন। তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তার ১২ জন। একজন বিদেশে পালিয়ে গেছেন আর দুজন পলাতক। পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

মানসিক সমস্যায় ভুগে রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আনিসুল করিম। ভর্তির পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারা যান তিনি। পরিবারের অভিযোগ, ভর্তির পরপর হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজেও দেখা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তাকে ভর্তির পরই একটি কক্ষে নিয়ে হাসপাতালটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মারধর করছেন।

আবদুল্লাহ আল মামুন সরকারি প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক হলেও আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতাল, মাইন্ড রয়েল, টাঙ্গাইলের ঢাকা ক্লিনিকে প্র্যাকটিস করতেন।

আনিসুল করিম ৩১তম বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। সর্বশেষ তিনি বরিশাল মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। তিনি এক সন্তানের জনক। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0