default-image

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে আবু ইউনুস মোহাম্মদ শহীদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। আজ রোববার সকালে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিদর্শনে যায় কমিশনের তিন সদস্যের কমিটি। এতে নেতৃত্ব দেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগ ও তদন্ত বিভাগের পরিচালক আল মাহমুদ ফাউজুল কবির।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ, বুড়িমারীর প্রথম বাঁশকল এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁরা বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ডাকবাংলোয় শহীদুন্নবীকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সাক্ষ্য নেন।

তদন্ত কমিটি পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার মোহন্ত, পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল, বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মাসুম হোসেন, এক নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাফিজুল ইসলাম, চকিদার আইয়ুব আলী, বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান হোসেন, ইমাম সৈয়দ আলী, মোয়াজ্জিন আফিজ উদ্দিন, খাদেম জুবেদ আলীসহ অন্যদের কাছ থেকে ঘটনা–সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাক্ষ্য নেন।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত কমিটির প্রধান আল মাহমুদ ফাউজুল কবির বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আপাতত নিশ্চিত যে কোরআন শরিফ অবমাননার বিষয়টি ভিত্তিহীন। তবে নিহত আবু ইউনুস মোহাম্মদ শহীদুন্নবী কেন রংপুর শহর থেকে বুড়িমারীতে এসেছিলেন? কারা ঘটনার জন্য দায়ী এবং বিষয়টি পরিকল্পিত কি না? সে বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত করা হচ্ছে। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বুড়িমারী মসজিদে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে রংপুরের শালবন মিস্ত্রিপাড়ার আবু ইউনুস মোহাম্মদ শহীদুন্নবীকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সার্বিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটির সদস্য ও লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ডেপুটি কালেক্টর রাহসিন কবির। তিনি বলেন, ‘আমি কমিটির সঙ্গে কাজ করছি।’

মন্তব্য পড়ুন 0