default-image

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দিতে আহ্বান জানিয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি। সিলেটের আদালত এলাকায় নোটিশ সাঁটিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
রোববার সাপ্তাহিক কর্মদিবসকে সামনে রেখে শনিবার সন্ধ্যায় নোটিশটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনসহ আদালতপাড়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাঁটানো হয়েছে।
সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মো. বজলুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাইকোর্ট গত ২৯ সেপ্টেম্বর একটি রুল জারি করে এমসি কলেজে গণধর্ষণের ঘটনা অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করেন। উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কিংবা যারা ঘটনা সম্পর্কে জানেন, তাঁরা কমিটির কাছে ৪-৭ অক্টোবর পর্যন্ত অফিস চলাকালে সাক্ষ্য দিতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কনফারেন্স রুম, জেলা ও দায়রা জজ আদালত (২য় তলা)।’

এর আগে ১ অক্টোবর দুপুরে কমিটির সদস্যরা এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ছাত্রাবাসের নবনির্মিত ভবনসহ ঘটনাস্থল ও ছাত্রাবাস কক্ষ পরিদর্শন করেন তাঁরা। পরে এমসি কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গেও কমিটির সদস্য বৈঠক করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মো. বজলুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল কাশেম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শারমিন নেছা ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ছাত্রাবাসে তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে। এর তিন দিন পর দায় নিরূপণে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তাঁদের আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন নজরে এনে প্রয়োজনীয় আদেশের আরজি জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন। শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন।
ধর্ষণের শিকার তরুণীকে রক্ষায় অবহেলা ও অছাত্রদের কলেজে অবস্থান বিষয়ে নীরবতায় অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। শিক্ষাসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, এমসি কলেজের অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপারসহ বিবাদীদের দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৮ অক্টোবর পরবর্তী আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ রেখেছেন আদালত।
এর আগে কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। কমিটির কাছে কেউ সাক্ষ্য দিতে যায়নি। তবে একজন প্রত্যক্ষদর্শী লিখিতভাবে সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সালেহ আহমদ জানিয়েছেন।
এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রধান আসামি সাইফুর রহমানসহ মামলার এজাহারভুক্ত চারজন ও এজাহারের বাইরে নাম থাকা দুজনসহ মোট ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার দুই আসামি রিমান্ডে আছেন। রোববার দুজনকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন