বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পিবিআইয়ের তথ্যমতে, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আগের প্রেমিক আমিনুলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান নিপা। সম্পর্কের একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর আমিনুল চাপ দিলেও ভ্রূণ হত্যা করতে রাজি হননি নিপা। আমিনুল পরিকল্পিতভাবে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মেঘনা নদীতে নৌকা ভ্রমণে নিয়ে হত্যা করে নিপার লাশ নদীতে ফেলে দেন। হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি সুজন মিয়াকে (২২) গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানা গেছে। ৮ নভেম্বর নরসিংদীর রায়পুরা থানার দিন চরম ধুয়া দড়ি হাটি এলাকা থেকে সুজন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, আসামি সুজন মিয়া ৯ নভেম্বর নরসিংদীর আদালতে হাজির হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে। ওই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি আমিনুল পলাতক। তিনিসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি এজাহারভুক্ত আসামি জহিরুল ইসলামকে (২০) গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদী পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন বলেন, মামলার প্রধান আসামি আমিনুলের সঙ্গে নিপার বিয়ের আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমিনুল ও নিপার সম্পর্ক নিপার বাবা মেনে নেননি। তিনি অন্যখানে নিপার বিয়ে দেন। সেখানে প্রায় এক বছর সংসার করেন নিপা। তাঁর ওই সংসারে একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।

পিবিআই জানায়, নিপার অন্য জায়গায় বিয়ে হলে ওই স্বামীকে নিপার সঙ্গে নিজেদের প্রেমের সম্পর্কের কথা জানান আমিনুল। নিপার স্বামী বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে নিপাকে তাঁর বাবার বাড়ি রেখে আসেন। একটা সময় তিনি নিপাকে তালাক দিয়ে দেন। এই সুযোগে আমিনুল আবার নিপার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়েন।

default-image

পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন বলেন, নিপা বিয়ের জন্য আমিনুলকে চাপ দেন। এতে আমিনুল তাঁর সহযোগী সুজন মিয়া, জহিরুল ইসলামসহ অন্যদের নিয়ে নিপাকে বিয়ে করার কথা বলে গত বছরের ২৪ এপ্রিল মেঘনা নদীতে নৌভ্রমণে নিয়ে যান। সেখানে নিপাকে হত্যা করে লাশ নদীর চরে মাটি চাপা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তাঁরা। তাঁরা নিপাকে মাঝনদীতে নিয়ে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ ও নৌকার কাঠ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন। এরপর তাঁরা মরদেহ নদীর চরে মাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু নদীতে জেলেরা থাকায় তাঁরা নিপার লাশ মাটি চাপা দিতে পারেননি। পরে তাঁরা লাশ মেঘনা নদীতে ফেলে দেন।

পিবিআই প্রধান কার্যালয়ের আইন ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ আজ প্রথম আলোকে বলেন, নিপার লাশ ভেসে ওঠার পর নরসিংদী সদর থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সেই লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।

নরসিংদী সদর থানা-পুলিশ উদ্ধার করা লাশ ও আলামত হিসেবে জব্দ করা পোশাকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়। নিপার স্বজনেরা নরসিংদী সদর থানায় গিয়ে আলামত হিসেবে জব্দ করা পোশাক ও লাশের তোলা ছবি দেখে নিপার লাশ শনাক্ত করেন।

নিপার মা কোহিনুর বেগমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নরসিংদী আদালত রায়পুরা থানাকে হত্যা মামলা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। মামলায় নিপার প্রেমিক আমিনুল ইসলাম তাঁর সহযোগী জহিরুল, সুজন মিয়াসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। সেই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় নৌ পুলিশ। পরে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পিবিআই নরসিংদী জেলা ওই মামলা তদন্তভার গ্রহণ করে।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন