default-image

২৪ বছরের রণজিৎ চন্দ্র রায় ছিলেন বিধবা মায়ের একমাত্র অবলম্বন। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের রণজিৎ চায়ের দোকানে কাজ করে মাসহ আরও চারজনের পেট চালাতেন। বিষাক্ত মদ পান করে গত ৭ নভেম্বর রণজিৎ ও একই এলাকার ভ্যানচালক হাফিজুর রহমানের (২৬) মৃত্যু হয়।

রণজিতের মা কুসুমবালা এখন ভিক্ষা করেন। তিনি ছেলের অকালমৃত্যুর বিচার চান। কিন্তু পুলিশ জানাচ্ছে, ওই ঘটনায় কেউই থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা করেননি। পুলিশের পক্ষ থেকে কেবল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তবে তদন্তে জানা যায়নি কারা মদে বিষাক্ত পদার্থ মেশাল।

গত ২৩ বছরে দেশে বিষাক্ত মদপানে মৃত্যুর ১০টির মতো ঘটনা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অনেক পরিবার সামাজিকতার কারণে মদ পানের বিষয়টিই গোপন রেখেছে। কোনো ক্ষেত্রে মামলা পর্যন্ত হয়নি। আবার মামলা হলেও সাজার উদাহরণ কম।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, দেশে মদ তৈরি হয় কেরু অ্যান্ড কোংয়ে। কেরুর দেশি মদের মূল উপাদান ইথাইল অ্যালকোহল। সংস্থাটির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের উপপরিচালক মানজারুল ইসলাম বলেন, তবে এসব গণমৃত্যুর মূল কারণ মিথানল বা মিথাইল অ্যালকোহল। শিল্পে ব্যবহৃত মিথানল দেখতে ও গন্ধে অনেকটা রেকটিফায়েড স্পিরিটের মতোই। এটির দাম কম হওয়ায় ভেজাল হিসেবে মিথানল মিশিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে বিক্রি করেন ভেজাল মদের ব্যবসায়ীরা। ১০ মিলিলিটার বিশুদ্ধ মিথানল একজন মানুষের মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট। আর পানি বা অন্য পদার্থ মিশ্রিত ২৫ থেকে ৯০ মিলি মিথানল সেবনের পর যথাসময়ে চিকিৎসা না পেলে মৃত্যু ঘটতে পারে। মিথানল শরীরের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। যার কারণে মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

৭১ মৃত্যু, একজনের কারাদণ্ড

১৯৯৮ সালে গাইবান্ধায় পয়লা বৈশাখের প্রাক্কালে বিষাক্ত মদ পান করে ৭১ জনের প্রাণহানি হয়। পুলিশ সূত্রগুলো জানায়, ওই ঘটনা তদন্তে জানা যায় গাইবান্ধার রিপা হোমিও হলের মালিক রবীন্দ্রনাথ সরকারের কাছ থেকে স্পিরিট কিনে পান করেছিলেন তাঁরা। অভিযোগ উঠেছিল বগুড়ার পারুল হোমিও ল্যাবরেটরির তৎকালীন মালিক নূর মোহাম্মদ রবীন্দ্রনাথ সরকারকে ভেজাল মদ জোগান দিয়েছেন।

২০০০ সালে বগুড়ায় বিষাক্ত মদ খেয়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, ওই ঘটনার তদন্তে নূর মোহাম্মদের সম্পৃক্ততা পেয়েছিল পুলিশ। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে বগুড়ায় বিষাক্ত মদ পানে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায়ও নূর মোহাম্মদের প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।

বগুড়ার সর্বশেষ ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা হয়। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই ঘটনায় নূর মোহাম্মদের এক ভাইসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রুস্তম নামের একজন বাহক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সম্প্রতি নূর মোহাম্মদ প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিনি মদের কোনো কারবারে জড়িত নন। গাইবান্ধায় মদ খেয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এ ছাড়া বগুড়ায়ও মদ পানে মারা যাওয়ার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। তবে রাজনীতি করার কারণে র‍্যাব তাঁর কাছ থেকে অবৈধ মদ উদ্ধার দেখিয়ে একবার গ্রেপ্তার করেছিল। এরপর তিনি বগুড়া ছাড়েন। তাঁর দাবি, তাঁর ভাইদের সঙ্গে ব্যবসায়িক কোনো অংশীদারত্ব নেই তাঁর। ভাইয়েরা বেআইনি কোনো কিছু করলে তাঁদের শাস্তি হোক, তাতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। তবে বগুড়ায় মদ খেয়ে ১৮ মৃত্যুর মামলায় তাঁর নাম কেন জড়িয়ে দেওয়া হলো, সেটা নিয়ে বিস্মিত তিনি।

গাইবান্ধায় ৭১ মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার অভিযোগে করা মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ শুধু রিপা হোমিও হলের রবীন্দ্রনাথ সরকার এবং সহযোগী মৃণাল কান্তির বিরুদ্ধে ২০০২ সালের ২৮ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে আদালত রবীন্দ্রনাথ সরকারকে তাঁর অনুপস্থিতিতে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন। পুলিশ সূত্র জানায়, রবীন্দ্রনাথ এখনো পলাতক।

গাইবান্ধা ট্র্যাজেডির পরের বছরই ১৯৯৯ সালের ৭ মে নরসিংদীতে বিষাক্ত মদ পানে শতাধিক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ১৯৯৯ সালের ১১ মের প্রথম আলোর খবরে বলা হয়, ওই দিন পর্যন্ত মদ পান করে নরসিংদী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ আরও শতাধিক। আর ১০ মে আরেকটি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃতের সংখ্যা দেড় শ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ওই ঘটনায় অসুস্থ অনেকেই পরে মারা যান। তাঁদের ধারণা, মৃতের সংখ্যা প্রায় দুই শ। ওই ঘটনার তিন দিন পর স্থানীয় নয়জন মদ বিক্রেতাকে আসামি করে অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করা হলেও এঁদের কারও সাজার কথা শোনা যায়নি। ওই সময় নরসিংদীর পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে অবৈধ মদের কারবারিদের কাছ থেকে ‘মাসোহারা’ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে তখন একাধিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পুলিশের মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করা হয় বলে সে সময় জানান জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার মোখলেসুর রহমান। এরপর ওই তদন্তের আর কোনো অগ্রগতি জানা যায়নি। তবে নরসিংদীতে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৎকালীন পরিদর্শক হাদিউজ্জামানকে বরখাস্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

১৯ মৃত্যুতে ‘দায় নেই’ কারও

করোনার মধ্যে গত ২৭ মে দিনাজপুরের বিরামপুরে বিষাক্ত মদ পানে ১০ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় হোমিওপ্যাথিক দোকানগুলোয় অভিযান চালানো হয়। বিরামপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করে। সেই মামলায় পল্লী হোমিও হলের মালিক আবদুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিছুদিন পরেই মান্নান জামিনে বের হয়ে এলাকা ছেড়েছেন।

একই সময়ে রংপুর সদরের শ্যামপুর ও পীরগঞ্জ থানা এলাকায় মদ পান করে ৯ জনের মৃত্যু হয়। রংপুর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা সূত্রে জানা যায়, রংপুরের পীরগঞ্জ ও সদর থানা এলাকায় ২৭ মে ৯ জনের মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় দুটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তবে ভেজাল মদ পান করে মৃত্যুর বিষয়টি সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। কাউকে আসামিও করা হয়নি। এসব মামলায় কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।

পরিবারের অভিযোগ নেই

চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি রাতে বিষাক্ত মদ পান করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর মেঘনাঘাট এলাকায় মারা যান উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান ওরফে বাবু (৩২) ও তাঁদের পরিবারের ব্যক্তিগত গাড়িচালক তোফাজ্জল হোসেন (৪০) এবং জাহিদের সহযোগী মহসিন মিয়া (২৩)। এ ঘটনায় অসুস্থ হন আরও পাঁচজন। মৃত তিনজনের ময়নাতদন্ত করা হয়নি। এর মধ্যে শুধু জাহিদ হাসানের বাবা আবুল খায়ের সোনারগাঁ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, তাঁর ছেলে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই।

এ অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনারগাঁ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পঙ্কজ কান্তি সরকার বলেন, তদন্তে তাঁরা প্রমাণ পেয়েছেন মৃত ও অসুস্থ ব্যক্তিরা মদ পান করেছিলেন। কিন্তু মৃত ব্যক্তিদের স্বজন ও অসুস্থরা সামাজিক কারণে ঘটনাটি নিয়ে এগোতে চান না। তাঁদের অসহযোগিতার কারণে তদন্তে সামনে এগোনো যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, গোপনে নিহতদের দাফন করায় ময়নাতদন্ত করা যায়নি।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা

গত মাসে বিষাক্ত মদ পানে রাজধানী ও গাজীপুরে পৃথক চারটি ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত এখনো চলছে। তাঁদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পৃথক চারটি ঘটনাতেই মদ সরবরাহ করে মূলত একটি চক্র। এই চক্রের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ভাটারার খিলবাড়িরটেকে ভেজাল মদ তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়।

আরও কেউ কেউ বিষাক্ত মদ সরবরাহ করছেন বলে খবর পেয়েছে গোয়েন্দা (গুলশান) বিভাগ। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ডিবির (গুলশান) উপকমিশনার মশিউর রহমান। তিনি আরও বলেন, বাজারে এখনো বিদেশি মদের সংকট। নকল মদ বানাতে পারেন, এমন কর্মী খুঁজছেন বড় বিক্রেতারা।

মদ বেচে উধাও ‘দুধওয়ালা’

গত ২৬ অক্টোবর বিজয়া দশমীর রাতে কুষ্টিয়ার সদর, খোকসা ও মিরপুর উপজেলায় বিষাক্ত মদ পান করে তিনজনের মৃত্যু হয়। আরও দুজন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন কুষ্টিয়া সদরের অনীক বিশ্বাস (২১), মিরপুর উত্তর কাটদহ এলাকার নিতাই বিশ্বাস (৩৫) ও খোকসা কালীবাড়ি এলাকার রিপন কুমার ঘোষ (৩২)। অসুস্থ হয়েছিলেন মিরপুর উপজেলার স্বরুপদহ এলাকার নিখিল পাল (২৬) ও ষষ্ঠি ঘোষ (২৪)।

এ ঘটনায় ৩০ অক্টোবর মারা যাওয়া অনীক বিশ্বাসের বাবা তপন বিশ্বাস কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ষষ্ঠি ঘোষকে আসামি করা হয়। মামলায় তাচ্ছিল্যপূর্ণ কাজের ফলে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়। ষষ্ঠিকে সে সময় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলাটি কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা তদন্ত করছেন। জানতে চাইলে এসআই মাসুদ রানা প্রথম আলোকে বলেন, আদালত থেকে জামিন নিয়ে ষষ্ঠি বর্তমানে বাইরে আছেন।

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা সূত্র জানায়, ষষ্ঠি দুধ কেনাবেচা করেন বলেই সবাই জানে। তবে আড়ালে মদও বিক্রি করেন তিনি। দুর্গাপূজার ঘটনার সময় ষষ্ঠি অ্যালকোহল চুয়াডাঙ্গা থেকে সংগ্রহ করেছিলেন বলে সে সময় জানা গিয়েছিল। ষষ্ঠির এখন কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

কুসুমবালার কষ্টের কাল

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের চলবলা ইউনিয়নের বান্দের কুড়া গ্রামের রণজিৎ আর হাফিজুর মারা যান গত বছরের ৭ নভেম্বর। সম্প্রতি বান্দের কুড়া গ্রামে গিয়ে জানা গেল রণজিতের মা কুসুমবালা ভিক্ষায় বেরিয়েছেন। এক বাড়িতে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। কুসুমবালা বলেন, ‘রণজিৎ মদ খায়া মরি গেল, হামাকও মারি গেল। মোর বিধবার সংসারত মুইসহ চার বিধবা আর এক নাতনিক নিয়া থাকং। রণজিৎ বাঁচি থাকার সময় শিয়াল খোয়া বাজারত চায়ের দোকানে কাজ করি হামার গুলার খরচ দিচ্ছিল। এলা ওয়ায় নাই, মুই বয়স্ক ভাতা পাং, তাক দিয়া কি সংসার চলে? তাই ভিক্ষা করং।’ তিনি রণজিতের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচার দাবি করেন।

আর হাফিজুর রহমানের মা হাসনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মদ খায়া ছেলে মরল, মানষক কইতে লজ্জা লাগে। হাফিজ মারা গেলে ওর বউ বাবার বাড়িত চলি গেছে।’

মদ পানে রণজিৎ আর হাফিজুরের মৃত্যুর বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, রণজিৎ আর হাফিজের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। পুলিশ থানায় জিডি করেছে।

মদ পান করে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানান, স্থানীয়ভাবে তৈরি মদ কিনে পান করেন তাঁরা।

রাষ্ট্রের কী দায়িত্ব

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত কেউ অভিযোগ করতে চান না। পরিবারগুলো স্বীকারই করতে চায় না যে তাদের কোনো স্বজন মদ পান করে মারা গেছেন। যার কারণে তদন্ত হয় না। এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্র সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করতে পারে।

মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, আরেকটা বিষয় হচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের পৃথক একটা সংস্থা আছে। তাদের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদেরও নজরদারি বাড়াতে হবে। দু-একটি ঘটনা পরীক্ষামূলক হিসেবে নিয়ে এদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিতে পারলে হয়তো একটা প্রভাব পড়বে। তবে যা-ই হোক রাষ্ট্রের একটা দায়িত্ব আছে। দেশের ভেতর যে কেউ এ রকম প্রাণহানিকর দ্রব্য বেচবে, তা তো হতে দেওয়া যায় না।

[প্রতিবেদনের জন্য তথ্য পাঠিয়েছেন, আরিফুল হক, রংপুর; আনোয়ার পারভেজ, বগুড়া; তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া; আবদুর রব, লালমনিরহাট; রাজিউল ইসলাম, দিনাজপুরমনিরুজ্জামান, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)]

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন