বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মেসার্স এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনের মালিক মো. এরশাদ আলীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের মামলায়। ওই মামলা করেছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা প্রশাসক বজলুর রশিদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘চা খেতে ডেকে আসামিরা প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. এরশাদ আলীকে জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। বলেছে, তাঁকে সর্বস্বান্ত করে ফেলবে।’ তিনি আরও বলেন, ২০১০ সাল থেকে তাঁরা এবি ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করছেন। ব্যাংকের সঙ্গে তাঁদের কোনো বিরোধ নেই। বিরোধ উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. আবদুর রহমান এবং কাকরাইল শাখার ব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদের সঙ্গে।

এদিকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহমানের গ্রেপ্তার নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলে খবর প্রকাশের পর তার প্রতিবাদ জানায় এবি ব্যাংক। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এরশাদ আলী একজন চিহ্নিত ঋণখেলাপি। তাঁর কাছে এবি ব্যাংকের অনাদায়ি ঋণের পরিমাণ ১৭৬ কোটি টাকা। এবি ব্যাংকের পাওনা অর্থ আদায় ব্যাহত করতে এই মামলা করেছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে চারটি মামলা আছে। তাই আক্রোশের বশবর্তী হয়ে তিনি মামলা করেছেন।

যা বললেন মামলার বাদী

মামলার এজাহারে বজলুর রশিদ মোটা দাগে তিনটি অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মেসার্স এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনের মালিক এরশাদ আলীর সঙ্গে আবদুর রহমানের পরিচয় বেশ কয়েক বছর আগে। তখন তিনি অন্য একটি ব্যাংকে ছিলেন। কয়েক দফায় তিনি এরশাদ আলীর কাছ থেকে ‘বড় অঙ্কের ঋণ নেন’। ২০১৭ সালে তিনি গুলশানের একটি ফ্ল্যাট এরশাদ আলীকে দিয়ে ওই ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ নেন। ফ্ল্যাটটি এরশাদ আলীর নামে দেওয়ার পরও সেটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে তাঁরা ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছেন।

তাদের দ্বিতীয় অভিযোগ, মেসার্স এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশন ব্যবসা বাড়াতে চাইছিল। তাদের মালিকানাধীন ‘জংদা রি–রোলিং মিল’ ব্যাংকে বন্ধক রেখে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিতে চেয়েছিল। ঋণ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে এ সময় ২৬টি চেকও দিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই ঋণ তারা পায়নি। রি–রোলিং মিলও পড়ে আছে।

তৃতীয় অভিযোগ হলো, ঋণ পুনঃ তফসিলের জন্য তারা ২০ লাখ টাকা দিয়েছিল। ওই টাকাও পুনঃ তফসিলের কাজে লাগাননি আসামিরা। এ বিষয়ে তাঁরা যোগাযোগ করলে ব্যাংক ছুটির পর আসামিরা তাঁদের দেখা করতে বলেন।

গত ১৩ আগস্ট তাঁরা মাতুয়াইলের পশ্চিমপাড়া মৃধাবাড়ির কাছে চায়ের দোকানে মো. আবদুর রহমান ও ফরিদ আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে যান। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মাতুয়াইলে পৌঁছালে প্রথমে আসামিরা তাঁদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এরপর মো. আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুরোনো মামলা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবে তাঁরা রাজি হননি। তাঁরা তখন পাল্টা ঋণ পুনঃ তফসিলের সুযোগ না দেওয়ার কথা বলেন। পরে তাঁরা এ ঘটনা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে তাঁদের বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁরা (আসামিরা) বাদীকে জানে মেরে ফেলা ও আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত করে ফেলার হুমকি দেন।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা প্রশাসক বজলুর রশিদ প্রথম আলোকে আরও বলেন, ‘ব্যাংকের ম্যানেজার ফরিদও বিভিন্ন সময় এরশাদ আলীর কাছ থেকে ধার করেছেন। কিছু টাকা ফেরত দিয়েছেন, কিছু দেননি। এ নিয়েও মামলা আছে।’

এবি ব্যাংক যা বলল

এবি ব্যাংক বলেছে, এরশাদ গ্রুপের কাছে ১৭৬ কোটি টাকা অনাদায়ি ঋণের পুরোটাই মন্দ ঋণ। ব্যাংক এরশাদ আলীকে দেওয়া ঋণের টাকা উদ্ধারে অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। মামলা এখন আদালতে বিচারাধীন। তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি ও প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তিনি জামিনে বাইরে আছেন। এরশাদ আলী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য–উপাত্ত গোপন রেখে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এবি ব্যাংক প্রতিবাদে আরও বলেছে, এবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে ব্যাংকের টাকা উদ্ধারের জন্য অন্যান্য ঋণখেলাপিদের মতো এরশাদ আলীর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতে এটি আরও গতিশীল হবে।

আবদুর রহমান ও ফরিদ আহমেদের বিরুদ্ধে এরশাদ আলীর কাছ থেকে নেওয়া ঋণের বিনিময়ের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ব্যাংক অবশ্য কিছু বলেনি।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন