বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় দুস্থ ও অসহায় নারীদের ভিজিডির তালিকায় নাম দেওয়ার কথা বলে আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মতিউর রহমান নামের ওই ব্যক্তি তালোড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
তবে টাকা দেওয়ার পরও ভিজিডির তালিকায় নাম না ওঠায় ক্ষুব্ধ নুরজাহান বেগম ওই নেতার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি মতিউর রহমান ভিজিডির তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নুরজাহানের কাছে দুই হাজার টাকা চান। নুরজাহান তাঁকে এক হাজার টাকা, দুই কপি ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেন। কিন্তু ৩০ জানুয়ারি চূড়ান্ত তালিকায় নুরজাহানের নাম না থাকায় তিনি ক্ষুব্ধ হন।
গত বৃহস্পতিবার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দোগাছি গ্রামের অভিযোগকারী নূরজাহান বেগমের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, ভিজিডি কার্ড দেওয়ার কথা বলে মতিউর রহমান তাঁর কাছ থেকে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ এক হাজার টাকা নেন। পরে জানতে পারেন, তালিকায় তাঁর নাম নেই। এরপর তিনি উপজেলায় অভিযোগ দিয়েছেন।
একই ধরনের অভিযোগ করেন একই গ্রামের আরও সাত-আটজন নারী। তবে তাঁরা লিখিত অভিযোগ করেননি। গ্রামের লিলি বিবি, জান্নাতি বেগম, শেফালী বেগম ও রহিমা বিবি জানান, বিগত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনের পর থেকে এ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নেই। তাই ইউপি চেয়ারম্যান বিভিন্ন সময়ে তাঁর লোক দিয়ে কাজ করে থাকেন। ভিজিডি কার্ডের কথা বলে মতিউর রহমান তাঁদের কাছে টাকা চেয়েছেন। যাঁদের সামর্থ্য আছে তাঁরা টাকা দিয়ে কার্ড করে নিয়েছেন। যাঁদের টাকা নিয়ে কার্ডের তালিকায় নাম দেয়নি, তাঁদের আংশিক টাকা ফেরত দিয়েছেন।
তবে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে মতিউর রহমান বলেন, মেম্বার বিদেশে থাকায় চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন কাজ করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মালেক সরদার বলেন, ভিজিডি কার্ড করার জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয় না। যাঁরা তালিকাভুক্ত হয়েছেন, কেউ এ ধরনের অভিযোগ করতে পারবেন না। কার্ড না পেয়ে এ ধরনের অভিযোগ অনেকে করতে পারেন।
ইউএনও সাইফুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ পেয়ে মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সত্যতা পেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা মহিলাবিষয়ক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ১ হাজার ৪৪০টি ভিজিডি কার্ড বিতরণের জন্য তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দুস্থ ও অসহায় নারীরা এ কার্ড পাবেন। কার্ডধারী প্রত্যেক নারী মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবেন। এভাবে তাঁরা দুই বছর চাল পাবেন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন