আজ বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার। তিনি বলেন, ১১ এপ্রিল পটুয়াখালীর গলাচিপায় কমর্স্থল থেকে গাড়িতে করে বাসায় ফেরার পথে অপহরণকারীরা ব্যবসায়ী শিবু লাল দাস ও তাঁর গাড়িচালক মিরাজ মিয়াকে তুলে নেয়। পরদিন ১২ এপ্রিল পটুয়াখালীর পুলিশ স্থানীয় একটি পেট্রলপাম্পের সামনে থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় তাঁর গাড়িটি উদ্ধার করে। পরে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় শিবুলাল ও তাঁর গাড়িচালককে পটুয়াখালী শহরের এসপি কমপ্লেক্স শপিং সেন্টারের ভূগর্ভস্থ অংশ (আন্ডারগ্রাউন্ড) থেকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী শিবু লাল পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা করেন। পটুয়াখালীর পুলিশ অপহরণকারী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে যোগাযোগ করে।

অভিযান তদারকি কর্মকর্তা ডিবি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, ল্যাংড়া মামুনের নেতৃত্বে অপহরণের পর গাড়িতে বসে স্কচটেপ দিয়ে মুখ, হাত-পা বেঁধে শিবুলাল ও তাঁর গাড়িচালককে বেধড়ক পেটানো হয়। মারধর করে তাঁদের প্লাস্টিকের বস্তায় ঢোকানো হয়। পরে তাঁদের পটুয়াখালী শহরের এসপি কমপ্লেক্স শপিং সেন্টারের ভূগর্ভস্থ টর্চার সেলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় ব্যবসায়ী শিবু লালের কাছ থেকে ২০ কোটি টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। মুক্তিপণ না দিলে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানালে শিবু লালকে হত্যা করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন অপহরণকারী ব্যক্তিরা।

একপর্যায়ে গাড়িচালক মিরাজ মিয়া কোনোমতে বস্তা থেকে বেরিয়ে এসে টর্চার সেলের দরজায় জোরে জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মীরা টের পেয়ে ঘটনাটি পুলিশকে জানায়। এর আগেই অপহরণকারী ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় ব্যবসায়ী শিবু লাল ও তাঁর গাড়িচালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

ডিবির কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

মশিউর রহমান আরও বলেন, চক্রের হোতা ল্যাংড়া মামুন এর আগে অপরাধ ঘটাতে গিয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ডান পায়ের ঊরু পর্যন্ত হারিয়েছেন। তিনি হাফেজি ও নুরানিতে পড়াশোনা করেছেন। পরে তিনি অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়েন। পটুয়াখালী শহরে নিজের টর্চার সেলে বিভিন্ন পেশার মানুষকে আটকে রেখে আপত্তিকর ছবি তুলে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন ল্যাংড়া মামুন।

আর পিচ্চি রানা বিভিন্ন টোলপ্লাজায় টোল সংগ্রহের কাজ করতেন। তৃণমূলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় তিনি ভেবেছিলেন, অপহরণ করে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করতে পারলে পটুয়াখালী রুটে পরিবহন ব্যবসা করতে পারবেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিসি) গাড়িচালক আশিক ভেবেছিলেন, মুক্তিপণের টাকা দিয়ে একাধিক গাড়ি কিনে বড় পরিসরে রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা শুরু করবেন তিনি।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন