লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসার ছয় ছাত্র ও এক শিক্ষক নিখোঁজ

লক্ষ্মীপুরের একটি মাদ্রাসার ছয় ছাত্র ও একজন শিক্ষকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ ছাত্রদের সবার বয়স ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। গত রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এক শিক্ষক ছয় ছাত্রকে নিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের হন। রাতে অটোরিকশায় করে তাদের চলে যেতে দেখেছেন ওই মাদ্রাসার আরেক শিক্ষক। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের খোঁজ মেলেনি।
সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুর্গাপুর গ্রামের রহমানিয়া তালিমুল কোরআন নুরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসাটি ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাদ্রাসার সভাপতি গোলাম মোস্তাফা জানান, দেড় শতাধিক ছেলেমেয়ে এখানে পড়ছে। তাদের মধ্যে ২৫ ছাত্রের মাদ্রাসায় থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। রোববার রাতে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মো. হোসাইন ওরফে জসিম ছাত্রদের নিয়ে পালিয়ে যান। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, হাফেজ জসিম ছাত্রদের নিয়ে রোববার গভীর রাতে মই দিয়ে দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। শব্দ শুনে তিনি জেগে উঠে ওই শিক্ষককে ধাওয়া দেন। তখন তিনি ছয় ছাত্রকে নিয়ে অটোরিকশায় করে পালিয়ে যান।
নিখোঁজ ছাত্ররা হলো দুর্গাপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে মো. রাসেল, আলতাফ হোসেনের ছেলে আবদুল্যাহ, হুমায়ুন কবিরের ছেলে জোবায়ের, হারুনুর রশিদের ছেলে মো. মুরাদ, জামাল হোসেনের ছেলে মো. রবিন এবং হাফেজ উল্যার ছেলে মো. মনির হোসেন।
নিখোঁজ রাসেলের মা জুলেখা ও আবদুল্যাহর মা ফাতেমা বেগম ছেলেদের উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁরা।
দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অটোরিকশাচালক মো. জসিম উদ্দিনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। ওই সাতজন অটোরিকশায় করে উপজেলার মান্দারী বাজারে যায়।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. আরজুন মিয়া বলেন, চালক জসিম উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিখোঁজ শিক্ষক ও ছাত্রদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।