লঞ্চের কেবিনে নারী খুন, একজন গ্রেপ্তার

বিজ্ঞাপন
default-image

ঢাকা-বরিশাল পথে চলাচলকারী লঞ্চের কেবিন থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে লাবণী (২৯)। তাঁকে খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে মনিরুজ্জামান চৌধুরী (৩৪) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বরিশালের সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জান্নাতুল ফেরদৌস ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ওলিউর রহমানের স্ত্রী। ওলিউর ভাঙ্গা উপজেলায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করেন। জান্নাতুলের বাবার বাড়ি উপজেলার আদমপুর এলাকায়। তিনি ও তাঁর দুই ছেলে বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় বসবাস করতেন। জান্নাতুলের লাশ মঙ্গলবার রাতে তাঁর ভাই মোক্তার হোসেন শনাক্ত করেন। পরে তাঁর কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া মনিরুজ্জামান গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকার আবদুস শহীদের ছেলে। তিনি মিরপুর-১–এর দারুস সালাম এলাকায় প্রিন্সিপাল আবুল কালাম রোডের সরকারি কোয়ার্টার এলাকায় বাস করতেন। সেখান থেকে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মহানগর (উত্তর) পিবিআই সদস্যদের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেন পিবিআই বরিশালের সদস্য। তিনি ঢাকায় শেয়ার রাইডিংয়ের গাড়ি চালাতেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত সোমবার সকালে নৌ পুলিশ সদস্যরা বরিশাল নদী বন্দরে একটি লঞ্চের কেবিন থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে জানতে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল নগরের রুপাতলী এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সার্বিক বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেন পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তদন্ত শুরু করার প্রথমেই অজ্ঞাতনামা ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা ওই নারীর সঙ্গে লঞ্চে ছিলেন এক ব্যক্তি। পরে ওই ব্যক্তির সন্ধানে নামে পিবিআই। একপর্যায়ে শনাক্ত হওয়া মনিরুজ্জামানকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। লঞ্চের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের ছবির সঙ্গে তাঁর চেহারা মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে মনিরুজ্জমানকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে জান্নাতুল ফেরদৌসের ব্যবহৃত ওড়না, মুঠোফোনসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মনিরুজ্জামানকে লঞ্চে যে শার্টটি পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে, সেটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনিরুজ্জামান স্বীকার করেছেন, বরিশালে আসার উদ্দেশে গত রোববার তাঁরা ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চে ওঠেন। রাতে দুজনের মধ্যে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হলে তিনি (মনিরুজ্জামান) জান্নাতুলকে ওড়না দিয়ে গলায় পেচিয়ে ধরেন। ফলে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। ভোরে লঞ্চটি বরিশাল নৌবন্দরে পৌঁছালে তিনি কৌশলে লঞ্চ থেকে নেমে বাসে করে ঢাকায় চলে যান।
বরিশাল সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এ ঘটনায় নৌ পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করছে। মনিরুজ্জামানকে আমরা হেফাজতে আনব এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর রিমান্ড আবেদন করব।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন