শারীরিক প্রতিবন্ধী আঁখির লড়াই
নাম তার আঁখি আকতার। শারীরিক আকার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই ছোট। তবে মনের জোর অনেকের চেয়ে বেশি। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় সবার অবহেলা আর সমালোচনার জবাব দিতে সহপাঠীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লেখাপড়া করে এগিয়ে চলেছে সে। এ বছর আঁখি আকতার সোনাহাটা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।
ধুনট ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে গত রোববার বেলা ১১টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, আঁখি ১২ নম্বর কক্ষের শেষ বেঞ্চে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। কক্ষের সামনের দিকে দাঁড়িয়ে পরীক্ষার্থীদের ভিড়ে তাঁকে চোখে পড়াই কঠিন। শারীরিক আকার এত ছোট যে নিচু বেঞ্চটিতে বসে উঁচু বেঞ্চে পরীক্ষার খাতা রেখে লেখাটা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু থেমে নেই আঁখির কলম।
পরীক্ষা শেষে আঁখি আকতার বলে, তার গ্রামের বাড়ি ধুনটের নিমগাছি ইউনিয়নের ধামাচামা গ্রামে। বাবার নাম আফজাল হোসেন। তিনিও শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ। মায়ের নাম খায়রুন নেছা। দুই ভাই সেলিম হোসেন আর মোমিন হোসেন। আঁখি সবার ছোট। পরিবারটির বসতভিটা ছাড়া কোনো জমি নেই। বড় ভাই অন্যের জমি বর্গা চাষ করেন। ছোট ভাই ডিগ্রি পাস করে বেকার। অভাবের সংসার। কষ্ট করেই লেখাপড়া করতে হয় তাঁকে। বাড়ি থেকে তাঁর কলেজের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। কখনো হেঁটে আবার কখনো রিকশাভ্যানে চড়ে কলেজে যাতায়াত করে সে। হাত-পা ছোট হওয়ায় সহপাঠীদের সঙ্গে হেঁটে কলেজে যেতে বেশ কষ্ট হয় তার। এ বছর সোনাহাটা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। ধুনট ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে সে।
আঁখি বলে, সহপাঠীসহ আশপাশের মানুষ তাঁর দৈহিক কাঠামোর জন্য অবহেলা আর কটুক্তি করে। সে একজন ভালো শিক্ষক হয়ে এসব কথার জবাব দিতে চায়।
সোনাহাটা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম বলেন, আঁখি আকতার কলেজের অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পড়ালেখা করছে।