বিজ্ঞাপন

আসামিদের জবানবন্দির বরাতে পুলিশ বলছে, সৈকত ও মেয়েটি উপজেলার একটি উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই শ্রেণিতে পড়ার সুবাদে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, তারা আদালতে গিয়ে বিয়ে করেছে। বিষয়টি নিয়ে মেয়েটির পরিবার ক্ষিপ্ত হয়। তারা কৌশলে মেয়েকে দিয়ে সৈকতকে বাড়িতে ডেকে আনার পথ নেয়। মেয়েটি মুঠোফোনে কল দিয়ে সৈকতকে ১৯ মে তাদের বাড়িতে ডেকে আনে। ওই দিন রাত ১০টার দিকে মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা সৈকতকে উপর্যুপরি কুপিয়ে এবং গলা কেটে হত্যা করেন। প্রথমে লাশটি তাঁদের বাড়ির রান্নাঘরের পাশের ময়লার গর্তে ফেলে রাখা হয়। পরদিন রাতে লাশটি সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বাড়ির পেছনের একটি জায়গায়। সেখানে গর্ত খুঁড়ে লাশটি মাটিচাপা দেওয়া হয়।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ তালুকদার বলেন, সম্পর্কের জেরেই সৈকতকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। বিষয়টির জোর তদন্ত চলছে।

সম্ভাব্য সব জায়গায় সন্ধান করেও ছেলেকে না পেয়ে সৈকতের বাবা আকরাম হোসেন ২০ মে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে পুলিশ অভিযানে নামে। ২১ মে রাতে তারা মাটি খুঁড়ে সৈকতের লাশ উদ্ধার করে। পরদিন আকরাম হোসেন থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার পর আসামিদের ধরতে মাঠে নামে থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একপর্যায়ে আকাশের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ১৬ বছরের কিশোরী, তার বাবা, ভাই, চাচাসহ ছয়জনকে মুক্তাগাছা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। সৈকতকে হত্যা ও লাশ গুমের কাজে ব্যবহৃত ছুরি ও কোদাল উদ্ধার হয়।

জেলা ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, ছয় আসামিকে রোববার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের মধ্যে পুরুষ তিনজন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হাইয়ের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এতে তাঁরা হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন