সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দিয়ে পালালেন বক্তা

সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দিয়ে পুলিশ দেখে নিজের গাড়ি ফেলে ইসলামি জলসা থেকে পালিয়েছেন বক্তা। তাঁকে পালাতে সহযোগিতা করার অভিযোগে পুলিশ স্থানীয় যুবলীগের এক নেতা ও এক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। জব্দ করা হয়েছে গাড়িটি। গত শনিবার রাতে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এই ইসলামি জলসার আয়োজন করা হয়েছিল।
এই বক্তার নাম শায়খ মো. ইমাম হাসান নাসেরী। তিনি নিজেকে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক এবং বাংলাদেশ মুফাসসির পরিষদের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে গতকাল পর্যন্ত বক্তার গাড়ির খোঁজ নিতে কেউ থানায় আসেননি। পুলিশ বলছে, গাড়ির কোনো কাগজপত্রও পাওয়া যায়নি।
এদিকে গতকাল সোমবার খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ যাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাঁর মাদ্রাসায় এই নামে কোনো শিক্ষক নেই। এই নামের কাউকে তিনি চেনেনও না।
পুলিশ জানিয়েছে, গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়পুর নামাজগ্রাম ঈদগাহ মাঠে গত শনিবার রাতে ইসলামি জলসার আয়োজন করা হয়েছিল। এই সভায় প্রধান বক্তা শায়খ মো. ইমাম হাসান নাসেরী সরকারবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘এই সরকার দাড়ি ও টুপিওয়ালা লোকদের রাখবে না। বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য আপনাদের জিহাদে অংশগ্রহণ করতে হবে।’
এ ধরনের বক্তব্যের খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে শায়খ ইমাম কৌশলে মঞ্চ থেকে নেমে পালিয়ে যান। তাঁকে পালাতে সহযোগিতা করেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খালেদুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য খাইবুর রহমান। পালানোর সময় শায়খ ইমাম তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িটি ফেলে যান। পরে পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে। জলসা আয়োজন এবং এই বক্তাকে পালাতে সহযোগিতা করার অভিযোগে পুলিশ যুবলীগের নেতা খালেদুল ও ইউপি সদস্য খাইবুরকে রাতেই গ্রেপ্তার করে।
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সী বলেন, পুলিশ ওই প্রধান বক্তাসহ খাইবুর ও খালেদুলের নামে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তিকে গত রোববার আদালতের মধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গতকাল সোমবার পর্যন্ত কেউ শায়খ ইমামের গাড়ির খোঁজ নিতে আসেননি। গাড়ির চালক বা কোনো কাগজপত্রও পাওয়া যায়নি।