সালিসে লাঞ্ছনা সইতে না পেরে আত্মহত্যা!

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় সালিসে মারধর ও কটূক্তির শিকার হয়ে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা এক জনপ্রতিনিধিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে আজ রোববার দুপুরে গোপালপুর থানায় মামলা করেছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাদিরা ইউনিয়নের ভাদুরীরচর গ্রামের পোশাকশ্রমিক নূরুল ইসলামের মেয়ে ও স্থানীয় হাতেম আলী উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া আক্তারের সঙ্গে সহপাঠী একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সেলিমের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। গত শুক্রবার রাত আটটার দিকে সেলিম যায় সামিয়ার ঘরে। এ সময় স্থানীয় দুই ব্যক্তি বাইরে থেকে ওই ঘরে তালা লাগিয়ে দেন। পরে তাঁরা আশপাশের লোকজন ডেকে জড়ো করেন। স্থানীয় লোকজন তাদের দুজনকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। সেলিমের পরিবার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। একপর্যায়ে সেলিমের পরিবারের পক্ষ নিয়ে হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ছবুর উদ্দিন তাঁর লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে সালিস বৈঠক বসান। বৈঠকে তিনি সামিয়াকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও কটূক্তি করেন। এরপর সেলিমকে সেখান থেকে তিনি নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকেই সামিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই ঘটনার পর গতকাল শনিবার সকালেও ইউপি সদস্য ছবুর ও সেলিমের পরিবারের লোকজন সামিয়াকে নিয়ে গ্রামে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলতে শুরু করেন। এসব কথার কিছু কিছু সামিয়াও জেনে যায়। এরপর ওই দিন সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশের বাঁশ ঝাড়ের সঙ্গে রশি বেঁধে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সামিয়া। তার লাশ ঝুলতে দেখে এলাকাবাসী গোপালপুর থানায় খবর দেন। পরে রাতে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আজ রোববার সামিয়ার মা আছমা বেগম বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনে সেলিম এবং ইউপি সদস্য ছবুর উদ্দিনসহ ছয়জনকে আসামি করে গোপালপুর থানায় মামলা করেছেন।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, সামিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামিরা পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।