বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত এনসিবিকে সেই দেশে গ্রেপ্তার থাকা পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল রানাকে ফেরত চেয়ে এ নিয়ে দুই দফায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা করছেন, আগামীকাল রোববার এ ব্যাপারে তাঁরা ইতিবাচক সাড়া পাবেন। সাড়া না পেলে ওই দিন দিল্লির এনসিবিকে আরেকবার সোহেল রানাকে ফেরত চেয়ে চিঠি পাঠাবেন।

এই সোহেল রানা আলোচনায় আসেন গত আগস্টের মাঝামাঝিতে, ই-অরেঞ্জ নামের একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর। ওই মামলায় তাঁর বোন সোনিয়া মেহেজাবিন ও ভগ্নিপতি মাসুকুর রহমান আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান। এরপর ২ সেপ্টেম্বর ই-অরেঞ্জের এক গ্রাহক আরেকটি মামলা করেন, যাতে সোহেল রানাকেও আসামি করা হয়। ওই রাতেই তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যান।

পুলিশের গুলশান বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সোহেল রানা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতীয়মান হয় যে তিনি ই-অরেঞ্জের অপকর্মে জড়িত। তাঁর কথিত স্ত্রী নাজনীন নাহার ও বোন সোনিয়া মেহেজাবিনকে টাকা দিয়ে ই-অরেঞ্জ চালাতেন।

মামলার তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন সূত্র থেকে সোহেল রানার চার স্ত্রী থাকার কথা বলা হলেও তদন্তে সোহেল রানার প্রথম স্ত্রীর বিষয়ে দাপ্তরিক কাগজপত্র পাওয়া গেছে। মামলায় ই-অরেঞ্জের নাজনীন নাহারকে (বীথি) চতুর্থ স্ত্রী উল্লেখ করা হলেও তিনি সোহেল রানার বিয়ে করা স্ত্রী নন। তিনি গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে সোহেল রানার সঙ্গে থাকতেন। নাজনীন এখন পলাতক।

এদিকে সোহেল রানার ঢাকার অভিজাত এলাকায় পাঁচটি ফ্ল্যাট, ৯ কোটি টাকা মূল্যের একটি বাণিজ্যিক ভবনে জায়গা (স্পেস), দুটি প্লট, তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং আরও চারটি দেশে তাঁর সম্পদ রয়েছে বলে খবর বের হয়েছে। সোহেল রানা বছর চারেক আগে পদোন্নতি পেয়ে পরিদর্শক হন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন গুলশান ও বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছিলেন। তাঁর এত অর্থসম্পদের কথা শুনে পুলিশের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও বিস্মিত বলে জানা গেছে।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন