বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নথি চুরির ঘটনায় মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. শাহ্ আলমকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ ঘটনায় চারজন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাঁরা হলেন ওই বিভাগের ক্রয় ও সংগ্রহ-২ শাখার সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর আয়েশা সিদ্দিকা, জোসেফ সরদার, প্রশাসন-২-এর (গ্রহণ ও বিতরণ ইউনিট) অফিস সহায়ক বাদল চন্দ্র গোস্বামী ও প্রশাসন-৩ শাখার অফিস সহায়ক মিন্টু মিয়া।

default-image

থানা-পুলিশের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের ১৭টি নথি চুরির ঘটনা ও জিডির ছায়া তদন্ত শুরু করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও চুরি হয়ে যাওয়া নথি উদ্ধারে কাজ শুরু করেন সিআইডির কর্মকর্তারা। কয়েক দফায় মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী, একজন ঠিকাদারসহ ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিআইডির কর্মকর্তারা। সিআইডির সূত্র বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছিলেন। তবে এ ঘটনায় কোনো মামলা না হওয়ায় তাঁদের ছেড়ে দিতে হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিআইডির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্তসংশ্লিষ্ট সিআইডির একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চায় না, তাই জিডির তদন্ত বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা করতেও রাজি নন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, চুরি হওয়া নথির বিকল্প নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। তাই নথিগুলো আর উদ্ধার না করলেও চলবে।

কর্মকর্তাদের ধারণা, কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে একজন অন্যজনকে ফাঁসাতে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। চুরির পর ধরা পড়ার ভয়ে নথিগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত না করে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

নথি চুরির ঘটনার জিডির তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক ইমাম হোসেন গত ১১ নভেম্বর প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তে বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই।

সিআইডির পাশাপাশি ওই জিডির তদন্ত করছে শাহবাগ থানার পুলিশ। থানার পুলিশ বলছে, জিডির তদন্ত অব্যাহত আছে। অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক অমল দে প্রথম আলোকে বলেন, চুরি হওয়া নথি উদ্ধার হয়নি। নেপথ্যের কারণ এখনো জানা যায়নি।

নথি চুরির ঘটনায় নীরব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

নথি চুরির ঘটনার প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও মামলা করা হয়নি। উদ্‌ঘাটিত হয়নি চুরির রহস্য। নথি চুরিসংক্রান্ত বিষয়ে কিছু তথ্য জানতে চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলামকে দুই দফা মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হয়। সর্বশেষ প্রশ্ন পাঠানো হয় গত ২২ ডিসেম্বর। তবে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

default-image

মাইদুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া তথ্যের মধ্যে ছিল চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা চিহ্নিত হয়েছেন কি না; চুরি হওয়া নথিগুলো উদ্ধার হয়েছে কি না; এই ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, না হলে মামলা করা হবে কি না; জিডির তদন্তে কোনো অগ্রগতি আছে কি না; তদন্তসংশ্লিষ্ট সিআইডি সূত্র বলছে, মন্ত্রণালয় চায় না জিডির তদন্ত হোক, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য কি; ঘটনার আগের ও পরের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেলেও ঘটনার দিনের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি কেন; এই নথি ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আর কোনো নথি চুরির ঘটনা রয়েছে কি না?

চুরি হয়েছিল যেসব নথি

যে নথিগুলো খোয়া গেছে, সেগুলোর বেশির ভাগই স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অধীন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও বিভাগের কেনাকাটা-সম্পর্কিত। জিডি সূত্র জানায়, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজসহ অন্যান্য মেডিকেল কলেজের কেনাকাটাসংক্রান্ত একাধিক নথি, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং কর্মসূচি, জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) কেনাকাটা, ট্রেনিং স্কুলের যানবাহন বরাদ্দ ও ক্রয়সংক্রান্ত নথি চুরি হয়েছে। এর বাইরে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক প্রকল্পের নথিও চুরি হয়েছে।

জিডিতে আরও বলা হয়, ২৭ অক্টোবর অফিস করে নথিগুলো ফাইল ক্যাবিনেটে রাখা হয়। পরদিন দুপুর ১২টায় কাজ করতে গিয়ে দেখা যায় ফাইলগুলো ক্যাবিনেটের মধ্যে নেই।

পুলিশ সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শাহাদৎ হোসাইনের কক্ষের লাগোয়া ঘর থেকে নথিগুলো চুরি হয়। পাশের লাগোয়া ঘরটিতে বসেন ক্রয় ও সংগ্রহ শাখা-২-এর সাঁট মুদ্রাক্ষরিক ও কম্পিউটার অপারেটর মো. জোসেফ সরদার ও আয়েশা সিদ্দিকা। ফাইলগুলো এই দুই কর্মীর ক্যাবিনেটে ছিল।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন