default-image

হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছ গতকাল রোববার হবিগঞ্জের আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এ এম এস কিররিয়া হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। আত্মসমর্পণের পর আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গউছকে কারাগারে পাঠানোর পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আদালত এলাকায় পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এতে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সাত পুলিশসহ ২২ জন আহত হন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জি কে গউছ হবিগঞ্জ আমলি আদালত-১-এ আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। প্রায় এক ঘণ্টা শুনানি শেষে আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রোকেয়া আখতার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে গউছকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ সময় গউছের পক্ষে আইনজীবী আরিফ চৌধুরী ও খালেকুজ্জামান চৌধুরী আদালতের কাছে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। সরকারি কৌঁসুলি আকবর হোসেন, বাদীপক্ষের আইনজীবী আলমগীর ভুইয়া জামিনের বিরোধিতা করেন।
আদালতের আদেশ শোনার পরপরই জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা আদালত এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় শহরের গণপূর্ত ভবন, জেলা পরিষদের রেস্ট হাউস, আট-দশটি ব্যাটারিচালিত যান (টমটম) ও দুটি প্রাইভেট গাড়ি ভাঙচুর হয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেধে যায়। পরে শহরের বিভিন্ন স্থানে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পরে। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে শতাধিক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিমুদ্দিন ও সাত পুলিশসহ ২২ জন আহত হন। এ সময় পুলিশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আট নেতা-কর্মীকে আটক করে। সংঘর্ষ চলাকালে হবিগঞ্জ শহরে দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। বেলা আড়াইটার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাসুদুর রহমান বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ও আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত ১৩ নভেম্বর হবিগঞ্জ আমলি আদালত-১-এ কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের তৃতীয় সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। এতে মেয়র গউছ, বিএনপির নেতা হারিছ চৌধুরী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ নয়জনকে নতুন করে অভিযুক্ত করা হয়।
এ হত্যা মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জহাদ (হুজি) নেতা মুফতি হান্নান, জি কে গউছসহ ২২ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। পলাতক রয়েছেন মাওলানা তাজ উদ্দিনসহ ১৩ জন।
২০০৫ সালে ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় শাহ এ এম এস কিবরিয়া নিহত হন। হামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের চার নেতা-কর্মী নিহত হন, আহত হন ৭০ জন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন