প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে শহীদ মিনার এলাকায় রাকিবকে খুন: পুলিশ
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় তরুণ রাকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করেছে পরিবার। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় সাত থেকে আটজন অংশ নিয়েছিলেন। একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে হামলাকারীদের ভাড়া করে ঢাকায় আনা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে সাত–আটজন অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
গত রোববার রাতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে রাকিবুল ইসলাম নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সোয়া ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন রাকিব। এ সময় কয়েকজন যুবক এসে তাঁকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি করে এবং পরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন হামলাকারীদের একজনকে চাপাতিসহ ধরে শাহবাগ থানায় দেন।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় রাকিবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। চিকিৎসকেরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। পরে রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান,
নিহত রাকিব ভোলা সদর উপজেলার চৌমুহনী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা তারিকুল ইসলাম খোকন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের কর্মচারী। পরিবার নিয়ে রাজধানীর নিমতলীর নাজিম উদ্দিন রোড এলাকায় থাকেন তিনি। রাকিব বোরহান উদ্দিন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।