পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি, আত্মসমর্পণের পর কারাগারে পারটেক্স চেয়ারম্যানের পুত্র শওকত
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯–এর বিচারক মো. আবদুস সালামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন শওকত। পরে শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খন্দকার শামীম হোসেন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি শওকত আজিজ রাসেল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তাঁর পক্ষের আইনজীবীরা এ মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন। একই সঙ্গে কারাগারে ডিভিশন চাওয়া হয়। পরে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ১৩ অক্টোবর একই আদালত রাসেলসহ ৮ জনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক, রেজাউল করিম তরফদার, পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের আরেক ছে আশফাক আজিজ রুবেল। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে জরিমানাও করা হয়।
মামলার রায়ে আসামি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাঁদের উভয় ধারায় ৭ বছর করে ১৪ সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পাশাপাশি তাঁদের নামে দুটি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন আদালত।
অপর দিকে রাজউকের সাবেক ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটি ধারায় তাঁদের ৭ বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিদের হাজতবাস মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে এবং উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠা প্লট বরাদ্দ দেওয়া ও নেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক। দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে ২০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দেন, যাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে।